
উত্তর ২৪ পরগনা, ২২ এপ্রিল (হি.স.): বুধবার উত্তর ২৪ পরগনার আমডাঙার সাধনপুর মাঠে দলের প্রার্থী কাশেম সিদ্দিকীর সমর্থনে জনসভা করেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, বিজেপি আমাদের বিরুদ্ধে সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে নেমেছে। আর কিছু বিজেপির গদ্দার আছে, সব কমিউনিটি থেকে, তারাও বিজেপির টাকায় আমাদের প্রার্থীর বিরুদ্ধে আপনাদের নানা রকম সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিচ্ছে। আমি কোনও সাম্প্রদায়িক উস্কানিতে বিশ্বাস করি না। নির্বাচনে এ রাজ্যের পুলিশের কাজের সমালোচনা করে তাদের কার্যত হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা বলেন, দু’লক্ষ পুলিশ (কেন্দ্রীয়) নিয়ে আসছে, আর আমাদের পুলিশরা ওদের সাথী হয়েছে। কারণ আমাকে ওরা এখন চেনে না, ওরা বিজেপিকে চেনে। তাঁর সংযোজন, গতকাল শুনলাম, কোলাঘাট থেকে রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে। সংবাদমাধ্যমও যেতে পারছে না। বাইক, রেল, রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে। তা হলে ভোটার যাবেন কী ভাবে, যারা বাইরে কাজ করেন? কারা এ সব করছে? তারা কি ভুলে গিয়েছে, আগামী দিনে এই বাংলার মাটিতেই কাজটা করতে হবে! আপনাদের আমি ভালোবাসি, সম্মান করি। আপনারা কারও মুখের কথায় নাচবেন না।
পশ্চিমবঙ্গে ভোটে নিরাপত্তার বহর নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, মিলিটারি, পুলিশ যাতে ছাপ্পা দিতে না পারে, আপনাদের দায়িত্ব নিতে হবে। শুধু রাফাল বিমান ছাড়া সব নামিয়েছে। বিজেপিকে জেতানোর জন্য বিজেপির ভ্যানিশ ওয়াশিং মেশিন তুমি যুদ্ধের সাজোয়া গাড়ি নামিয়েছো। তুমি মিলিটারিদের নিয়ে মিটিং করেছো। বিএসএফ, সিআরপিএফ নামিয়েছো। কাকে নামাওনি? সাজোয়া গাড়ি নিয়ে এসেছো কেন? গুলি চালাবে? মানুষকে হত্যা করবে? ভোট গণতন্ত্রের উৎসব, হত্যার জায়গা নয়।
মমতা বলেন, হজে যাওয়ার আগে নিজের ভোটটা দিয়ে যাবেন। ভোট না দিয়ে কেউ যাবেন না। গেলে আপনাকে এনআরসি করে দেশ থেকে বিতাড়িত করবে। তখন কিন্তু আমায় দোষ দেবেন না। মমতার কথায়, হজের অনেক সময় আছে। প্রতিবার ভোটের সময় ফেলে, যাতে এখানকার লোক ভোট না দিতে পারেন। পরিযায়ী শ্রমিকদের প্রসঙ্গে মমতা বলেন, যাঁরা অন্য রাজ্য থেকে আসেন, তাদের গীতা, কোরান ছুঁইয়ে বলছে, বিজেপিকে ভোট দিতে হবে। আমি, তাঁদের বলব, ওখানে আর যেতে হবে না। এখানে থাকুন, কাজ করুন। এখানে অনেক কাজের সুযোগ সুবিধা আছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌম্যজিৎ