

কলকাতা, ২২ এপ্রিল (হি.স.): কলকাতা প্রেস ক্লাবের-এর উদ্যোগে আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ শীর্ষক সাংবাদিক সম্মেলনে বুধবার তৃণমূলের তরফে উপস্থিত ছিলেন ব্রাত্য বসু। রাজ্যে প্রথম দফার নির্বাচনের একদিন আগে তিনি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন। নির্বাচন প্রক্রিয়া, কেন্দ্রের প্রশাসনিক ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ, আর্থিক বঞ্চনা এবং ভাষা-সংস্কৃতি ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
অনুষ্ঠানের সূচনালগ্নে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান প্রেস ক্লাবের সহ-সম্পাদক নিতাই মালাকার। এবারের নির্বাচনী পরিস্থিতিকে “দাবদাহের সঙ্গে তুলনা” করেন ব্রাত্য বাবু। তাঁর দাবি, এই নির্বাচন আর কেবলমাত্র গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং কেন্দ্রীয় সরকার পরিকল্পিতভাবে রাজ্যের মহিলা মুখ্যমন্ত্রীকে ক্ষমতাচ্যুত করার প্রয়াস চালাচ্ছে।
পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি অভিযোগ করেন, বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার নামে প্রায় ৯১ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য সাধারণ মানুষকে দীর্ঘ সময় ধরে লাইনে দাঁড়াতে বাধ্য করা হয়েছে। প্রায় ২০০ জন আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন। পাশাপাশি, যাঁদের ‘অনুপ্রবেশকারী’ বলা হয়েছিল, তাঁদের সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করতে কেন্দ্র ব্যর্থ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপের প্রসঙ্গে ব্রাত্য বসু জানান, বিপুল সংখ্যায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন, বহু প্রশাসনিক আধিকারিক ও থানার ওসি-দের বদলি এবং একাধিক কেন্দ্রীয় নেতার ঘনঘন রাজ্যে আসা-যাওয়া, এই সবই নির্বাচনী পরিবেশকে প্রভাবিত করছে বলে তাঁর অভিযোগ। আই-প্যাক সংক্রান্ত প্রশ্নে তিনি বলেন, দলের নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের আচমকা গ্রেফতার করা হচ্ছে, ইডি ও সিবিআই -এর মতো কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি তদন্তের নামে প্রার্থীদের বাড়িতে বাড়িতে অভিযান চালাচ্ছে, যা বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করছে বলে তাঁর অভিযোগ।
এদিন কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আর্থিক বঞ্চনার অভিযোগও তোলেন তিনি। তাঁর কথায়, প্রধানমন্ত্রীর আবাস যোজনার প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা এখনও বকেয়া রয়েছে। জলজীবন যোজনার ক্ষেত্রেও অন্যান্য রাজ্য বরাদ্দ পেলেও পশ্চিমবঙ্গ বঞ্চিত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি বাংলা ভাষা নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্ক প্রসঙ্গে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “বাংলাকে ‘বাংলাদেশি ভাষা’ বলা হচ্ছে, অথচ এটি দেশের স্বীকৃত প্রাচীন ভাষাগুলির অন্যতম।”
ভাষা ও সংস্কৃতি প্রসঙ্গে বিজেপি নেতৃত্বের মন্তব্য নিয়েও সমালোচনা শোনা যায় তাঁর বক্তব্যে। বঙ্কিমচন্দ্র, নেতাজিকে ঘিরে বিতর্কিত মন্তব্য কিংবা বিভিন্ন স্থানের নাম ভুলভাবে উচ্চারণ— এসবের মধ্যে অজ্ঞতা ও সংবেদনশীলতার অভাব ফুটে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি অভিযোগ করেন, ভিনরাজ্যে কর্মরত বাংলার প্রায় ২ হাজার শ্রমিক ভাষাগত কারণে নিপীড়নের শিকার হলেও সে বিষয়ে কেন্দ্র নীরব রয়েছে।
অর্থনৈতিক সূচকের মানোন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি জানান, সমীক্ষা অনুযায়ী রাজ্যের মাথাপিছু আয় প্রায় ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং প্রায় ১ কোটি ৪০ লক্ষ মানুষ দারিদ্র্যসীমার উপরে উঠে এসেছেন। এই পরিসংখ্যানকে আশাব্যঞ্জক বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতে সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামের মতো আন্দোলনে যেমন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বাংলার মানুষকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তেমনই এবারের নির্বাচনে বাংলার মানুষ মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে রয়েছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সুনন্দা দাস / সৃজিতা বসাক