
কলকাতা, ২২ এপ্রিল (হি. স.) : লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল নন্দীগ্রাম। প্রচারের শেষ লগ্ন থেকেই দুই যুযুধান পক্ষ—তৃণমূল ও বিজেপি একে অপরের বিরুদ্ধে মারধর, বাড়ি ভাঙচুর ও এলাকায় সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরির অভিযোগ তুলেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মঙ্গলবার রাত থেকেই স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে রুট মার্চ শুরু করেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে খবর, নন্দীগ্রামের ভেকুটিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বাড়কাণ্ডপসরা এলাকার ৫১ ও ৫২ নম্বর বুথকে ঘিরে চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, মঙ্গলবার রাতে স্থানীয় বিজেপি নেতা মধুসূদন সাহুর নেতৃত্বে একদল দুষ্কৃতী এলাকায় তাণ্ডব চালায়। অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতেই তৃণমূল কর্মীদের বাড়িতে হামলা করা হয়েছে, ভাঙচুর করা হয়েছে টোটো। এমনকি আলমারির লকার ভেঙে সোনাদানা ও গয়না লুটপাটের গুরুতর অভিযোগও তুলেছে শাসকদল। এছাড়া দলীয় পতাকা ও ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলার পাশাপাশি কর্মীদের মারধর করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
পাল্টা অভিযোগ তুলেছে বিজেপি নেতৃত্বও। তাদের দাবি, কাণ্ডপসরা মালাকার মোড় এলাকায় মঙ্গল মাইতি নামে এক বিজেপি কর্মীকে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা নৃশংসভাবে মারধর করেছে। বর্তমানে তিনি গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন। বিজেপির দাবি, মঙ্গলের স্পাইনাল কডে গুরুতর আঘাত লেগেছে।
এই পরিস্থিতি নিয়ে নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র কর বলেন, “পরাজয়ের ভয়েই বিজেপি মরিয়া হয়ে আমাদের কর্মীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। এলাকায় সন্ত্রাস কায়েম করে ভোটারদের ভয় দেখানো হচ্ছে।” অন্যদিকে বিজেপিও তৃণমূলের বিরুদ্ধে একপেশে সন্ত্রাসের পাল্টা তোপ দেগেছে।
ভোটের ঠিক আগে নন্দীগ্রামের এই অশান্তি প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। অশান্তির খবর পেতেই রাত থেকে এলাকায় এলাকায় টহল দিচ্ছে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। যেকোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং সাধারণ ভোটারদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / শুভদ্যুতি দত্ত