আগরতলায় জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষাকেন্দ্রে উত্তেজনা, সময়সীমা পেরোনোয় একাধিক পরীক্ষার্থী বঞ্চিত
আগরতলা, ২২ এপ্রিল (হি.স.) : ত্রিপুরা জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষাকে ঘিরে বুধবার আগরতলার বোধজং বয়েজ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল পরীক্ষাকেন্দ্রে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কেন্দ্রে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও বেশ কয়েকজন পরীক্ষা
জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষা


আগরতলা, ২২ এপ্রিল (হি.স.) : ত্রিপুরা জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষাকে ঘিরে বুধবার আগরতলার বোধজং বয়েজ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল পরীক্ষাকেন্দ্রে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কেন্দ্রে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও বেশ কয়েকজন পরীক্ষার্থীকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি, যার জেরে পরীক্ষা কেন্দ্র চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ৮ - ১০ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে চরম হতাশা ও মানসিক ভেঙে পড়ার চিত্র দেখা যায়। কয়েকজন পরীক্ষার্থী কান্নায় ভেঙে পড়ে, অন্যদিকে ক্ষুব্ধ অভিভাবকদের একাংশ কেন্দ্রের বাইরে জড়ো হয়ে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

পরীক্ষার্থীদের দাবি, তাঁরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কেন্দ্রে পৌঁছেছিলেন। তবে প্রবেশ প্রক্রিয়ায় বিলম্ব এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে তাঁদের ভিতরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। তাঁদের অভিযোগ, কিছু ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও যাচাইকরণ প্রক্রিয়া অত্যন্ত ধীরগতিতে চলায় সময় নষ্ট হয়েছে, যার খেসারত দিতে হয়েছে পরীক্ষার্থীদেরই।

অন্যদিকে, পরীক্ষা কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ অস্বীকার করে স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, পরীক্ষার নির্ধারিত “কাট-অফ টাইম” অতিক্রান্ত হওয়ার পর কাউকেই কেন্দ্রের ভিতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়। নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের পর গেট বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং তা কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ত্রিপুরা জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. শুভদীপ পাল জানান, “সার্বিকভাবে পরীক্ষা শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তবে দেরিতে পৌঁছানোর কারণে কয়েকজন পরীক্ষার্থীকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। পরীক্ষার নিয়মাবলি অত্যন্ত স্পষ্ট—নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলে কাউকেই আর প্রবেশের অনুমতি দেওয়া যায় না।” তিনি আরও বলেন, পরীক্ষার্থীদের আগেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যেন তাঁরা পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়ে কেন্দ্রে পৌঁছায়।

যদিও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছিল, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসে।

উল্লেখ্য, রাজ্যজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নিয়মাবলির মধ্য দিয়ে এবারের জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে আগরতলার এই ঘটনা পরীক্ষা ব্যবস্থাপনার কঠোর নিয়মাবলি এবং বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে সামঞ্জস্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে পরীক্ষাকেন্দ্রগুলিতে আরও সুসংগঠিত ব্যবস্থাপনার দাবি উঠতে শুরু করেছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande