
বাঁকুড়া, ২৩ এপ্রিল (হি.স.): বৃহস্পতিবার বিকেলে শালতোড়া বিধানসভা এলাকায় ইভিএম বোঝাই একটি গাড়িকে কেন্দ্র করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
বিজেপির শালতোড়া বিধানসভা প্রার্থী চন্দনা বাউরি অভিযোগ করেন, একটি “ভুয়ো সরকারি গাড়ি” ব্যবহার করে ইভিএম স্থানান্তরের মাধ্যমে ভোট প্রক্রিয়ায় কারচুপির চেষ্টা করা হয়েছে। তাঁর দাবি, ভোটগ্রহণের পর ইভিএম রিসিভিং সেন্টারে পাঠানোর সময় নির্দিষ্ট নিয়ম না মেনে গাড়িতে করে ইভিএম বহন করা হচ্ছিল।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, শালতোড়ার তিলুড়ি এলাকায় একটি বোলেরো গাড়িতে একাধিক ইভিএম দেখতে পান স্থানীয়রা। এরপর গাড়িটিকে ঘিরে বিক্ষোভ শুরু হয়। ঘটনাস্থল থেকে চন্দনা বাউরি সামাজিক মাধ্যমে লাইভ করে বিষয়টি সামনে আনেন।
বিজেপি প্রার্থীর আরও অভিযোগ, গাড়িতে তৃণমূল কংগ্রেসের পতাকা পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা ছিল। তিনি নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা দ্রুত না এলে ইভিএম বোঝাই গাড়িতে আগুন ধরানোর হুঁশিয়ারিও দেন বলে জানা যায়।
এই ঘটনায় বিষ্ণুপুরের বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁও সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে প্রশাসনের একাংশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইভিএম সম্পূর্ণভাবে নির্বাচন কমিশনের নজরদারিতে রয়েছে এবং ভোট প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
ঘটনার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান নির্বাচনী পর্যবেক্ষক (অবজারভার) ও অন্যান্য আধিকারিকরা। প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়েছে, ওই ইভিএমগুলি ভোটগ্রহণের জন্য ব্যবহার হয়নি, সেগুলি রিজার্ভ স্টোরে স্থানান্তর করা হচ্ছিল।
বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচনী আধিকারিকরা। বাঁকুড়ার জেলাশাসক জানিয়েছেন, “ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে, যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সব মিলিয়ে ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসন ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোমনাথ বরাট