ধর্মনগরে বিদ্যুৎ, জল ও সড়ক সমস্যায় কংগ্রেসের ডেপুটেশন, দুই দিনের সময়সীমা
ধর্মনগর (ত্রিপুরা), ২৮ এপ্রিল (হি.স.) : উত্তর ত্রিপুরার ধর্মনগরে একাধিক জনস্বার্থমূলক দাবিকে সামনে রেখে মঙ্গলবার মহকুমা শাসক দেবযানী চৌধুরীর কাছে ডেপুটেশন প্রদান করল কংগ্রেস নেতৃত্ব। কংগ্রেস নেতা চয়ন ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে এই কর্মসূচি হয়। শহরের বি
মহকুমাশাসককে ডেপুটেশন


ধর্মনগর (ত্রিপুরা), ২৮ এপ্রিল (হি.স.) : উত্তর ত্রিপুরার ধর্মনগরে একাধিক জনস্বার্থমূলক দাবিকে সামনে রেখে মঙ্গলবার মহকুমা শাসক দেবযানী চৌধুরীর কাছে ডেপুটেশন প্রদান করল কংগ্রেস নেতৃত্ব। কংগ্রেস নেতা চয়ন ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে এই কর্মসূচি হয়। শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকরা এদিন মহকুমা শাসকের দফতরে উপস্থিত হয়ে স্মারকলিপি জমা দেন।

কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত কয়েকদিন ধরে ধর্মনগর শহর ও শহরতলীর বিস্তীর্ণ এলাকায় ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। দিনের পর দিন অনিয়মিত বিদ্যুৎ পরিষেবার ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে গৃহস্থালির কাজ—সব ক্ষেত্রেই বিপর্যয় নেমে এসেছে। গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু ও বয়স্কদের কষ্ট আরও বেড়েছে বলে অভিযোগ।

এর পাশাপাশি শহরে তীব্র পানীয় জলের সংকট দেখা দিয়েছে বলেও দাবি করা হয়। বহু এলাকায় নিয়মিত জল সরবরাহ না হওয়ায় বাসিন্দাদের বিকল্প ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

অন্যদিকে, ধর্মনগর-কৈলাসহর সড়কের বেহাল অবস্থাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ প্রকাশ করে কংগ্রেস নেতৃত্ব। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির সংস্কার না হওয়ায় রাস্তাটি কার্যত ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। বড় বড় গর্ত ও ভাঙাচোরা অংশের কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে, যা যাত্রী ও পথচারীদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।

এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার দ্রুত সমাধানের দাবিতেই মহকুমা শাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে বলে জানান কংগ্রেস নেতৃত্ব।

এদিন কংগ্রেস নেতা চয়ন ভট্টাচার্য শাসক দল বিজেপিকে কটাক্ষ করে বলেন, উপনির্বাচনের পর থেকেই শাসক দল নিজেদের কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত থাকলেও সাধারণ মানুষের মৌলিক সমস্যার প্রতি তাদের কোনও নজর নেই। বিদ্যুৎ, পানীয় জল ও সড়কের মতো অত্যাবশ্যক পরিষেবার অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় হলেও সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, সমস্যাগুলির দ্রুত সমাধানের জন্য মহকুমা শাসককে দুই দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যদি কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দেন কংগ্রেস নেতৃত্ব। “প্রয়োজনে রাস্তায় নেমে এই ঘুমন্ত সরকারকে জাগাতে বাধ্য হব,” বলেও মন্তব্য করেন চয়ন ভট্টাচার্য।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande