
দুর্গাপুর, ২৩ এপ্রিল (হি.স.): বুথে পৌঁছানোর আগেই ভোট হয়ে যাওয়ার অভিযোগকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল দুর্গাপুর পশ্চিম বিধানসভায়। বেনাচিতি এলাকার ৮৬ নম্বর বুথে এক বৃদ্ধার ভোট আগেই কাস্ট হয়ে যাওয়ার দাবি ঘিরে বৃহস্পতিবার তীব্র শোরগোল তৈরি হয় রাজনৈতিক মহলে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার রাজ্যে প্রথম দফার বিধানসভা নির্বাচন চলাকালীন কড়া নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে ভোটগ্রহণ হচ্ছিল। ছাপ্পা ভোট রুখতে বুথে ছিল ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ভোটকেন্দ্রের গেটে কেন্দ্রীয় বাহিনী ভোটারদের সচিত্র পরিচয়পত্র যাচাই করার পর প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছিল। এরপর বুথের ভেতরে বিএলও-দের মাধ্যমে আবারও পরিচয় যাচাই করা হচ্ছিল। সবশেষে বুথের ভিতরে ভোটগ্রহণ চলছিল।
তবুও দুর্গাপুর পশ্চিম বিধানসভা এলাকার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের বেনাচিতির মহিষকাপুর স্কুলের ৮৬ নম্বর বুথে গীতা অধিকারী নামে এক বৃদ্ধা অভিযোগ করেন, তিনি তিনবার ভোটকেন্দ্রে গেলেও ভোট দিতে পারেননি। তাঁর দাবি, “বুথে গিয়ে জানতে পারি আমার ভোট নাকি আগেই পড়ে গেছে। আমি অবাক হয়ে যাই। আমি ভোটই দিইনি, অথচ ভোট হয়ে গেছে বলে জানানো হয়।”
তিনি আরও জানান, সকাল থেকে তিনবার ভোটকেন্দ্রে গেলেও কোনো সমাধান মেলেনি। শেষ পর্যন্ত ভোট না দিয়েই ফিরে আসতে হয় তাঁকে।
ঘটনাকে ঘিরে আরও প্রশ্ন উঠেছে, কারণ ভোট দেওয়ার পর সাধারণত ভোটারের আঙুলে অমোচনীয় কালি থাকে। কিন্তু ওই বৃদ্ধার ক্ষেত্রে তেমন কোনো দাগও দেখা যায়নি।
ঘটনার পর রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। বিজেপি প্রার্থী লক্ষণ ঘড়ুই বলেন, “এই ধরনের ঘটনা তৃণমূলের ইতিহাসে নতুন নয়। ২০১৭ সালের পুরসভা নির্বাচন এখনও মানুষ ভুলে যায়নি।”
অন্যদিকে, ঘটনাস্থলে পৌঁছে তৃণমূল প্রার্থী কবি দত্ত ভোটারের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। বিষয়টি তদন্ত হওয়া উচিত।”
গোটা ঘটনায় নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে শিল্পাঞ্চলে।
হিন্দুস্থান সমাচার / জয়দেব লাহা