
আগরতলা, ২৩ এপ্রিল (হি.স.) : দেশের একাধিক রাজ্যে ভোটের প্রাক্কালে মহিলা সংরক্ষণ বিলকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ল। বৃহস্পতিবার প্রদেশ বিজেপি কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা বিরোধী জোটের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করে তাদের ‘মহিলা বিরোধী’ বলে আখ্যা দেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভাগুলিতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ ভারতের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এক বৈপ্লবিক পদক্ষেপ। তিনি দাবি করেন, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে নতুন সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বিশেষ অধিবেশনে সংবিধানের ১২৮তম সংশোধনী বিল হিসেবে এটি পাশ হয় এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের মাধ্যমে ১০৬তম সংবিধান সংশোধনী আইনে পরিণত হয়।
তবে সাম্প্রতিক বিশেষ অধিবেশনে সংশোধিত রূপে বিলটি পুনরায় সংসদে উত্থাপন করা হলেও তা পাশ করানো সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ভোটাভুটিতে বিলটির পক্ষে ২৯৮টি ভোট পড়লেও বিপক্ষে পড়ে ২৩০টি ভোট, ফলে প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন না মেলায় বিলটি পাশ হয়নি।
মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, এই বিল কার্যকর করতে কিছু কাঠামোগত সংশোধনের প্রয়োজন ছিল, যার জন্য ২০২৬ সালের এপ্রিলে সংশোধনী আনা হয়। এর পাশাপাশি, পুরুষদের আসন সংখ্যা অপরিবর্তিত রেখে মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর লক্ষ্যে লোকসভার আসন সংখ্যা বৃদ্ধির পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছিল। সেই প্রেক্ষিতে ১৩১তম সংশোধনী বিল হিসেবে বিষয়টি সংসদে তোলা হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, ইন্ডি জোটের বিরোধীতার কারণেই এই গুরুত্বপূর্ণ বিল পাশ করা যায়নি। তাঁর কথায়, “বিরোধীরা শুধু মহিলাদেরই নয়, গোটা দেশকেই বঞ্চিত করেছে। তারা আত্মকেন্দ্রিক রাজনীতি করে এবং মহিলাদের ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করে না।”
কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “দীর্ঘদিন ধরেই কংগ্রেস মহিলাদের স্বার্থ উপেক্ষা করেছে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর আমলে মুসলিম মহিলাদের প্রতি অবিচার করা হয়েছিল।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তিন তালাক প্রথা নিষিদ্ধ করে মুসলিম মহিলাদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেছেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ