
কলকাতা, ২৪ এপ্রিল (হি. স.) : যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে নির্বাচনী জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর করা মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সাফ জানিয়েছেন যে, দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অপমান কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। মুখ্যমন্ত্রী সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'এক্স'-এ প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন তুলেছেন, মেধাবী পড়ুয়াদের সম্পর্কে এই ধরণের ভাষা বা মন্তব্য করা কি আদৌ শোভা পায়? তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ধারাবাহিকভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের 'ন্যাশনাল ইনস্টিটিউশনাল র্যাঙ্কিং ফ্রেমওয়ার্ক' -এ শীর্ষস্থানে রয়েছে। এমন এক প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিকভাবে নিশানা করা দুর্ভাগ্যজনক।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন যে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা কঠোর পরিশ্রম এবং নিজেদের যোগ্যতার জোরে সেখানে পড়ার সুযোগ পায়। তারা সেখান থেকে কেবল ডিগ্রি নিয়ে নয়, বরং জ্ঞান এবং প্রশ্ন করার ক্ষমতা নিয়ে বেরিয়ে আসে। তাঁর মতে, এটি অরাজকতা নয়, বরং শিক্ষা ও শ্রেষ্ঠত্বের পরিচয়। পড়ুয়াদের প্রতিবাদ করা গণতন্ত্রের অংশ, একে গণতন্ত্রের পতন বলা যায় না। ছাত্রদের সোচ্চার হওয়া আসলে গণতান্ত্রিক চেতনারই লক্ষণ। কেন্দ্র সরকারকে পরোক্ষভাবে আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন যে, প্রকৃত অরাজকতা হলো যখন ক্ষমতার অপব্যবহার করে মানুষের কণ্ঠরোধ করা হয়, কৃষকদের আওয়াজ দাবিয়ে দেওয়া হয় এবং গরিবদের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। মণিপুর পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনেও তিনি কেন্দ্রকে বিঁধেছেন। পরিশেষে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন যেন যাদবপুরের মতো ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যশালী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কলঙ্কিত না করা হয়, কারণ এই প্রতিষ্ঠান দেশের জাতীয়তাবাদী ভাবধারা এবং বাংলার শিক্ষা সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য প্রতীক।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি