ধানবাদে ভয়াবহ ভূমিধস, টান্ডাবাড়ি বস্তিতে ১০টি বাড়ি ধসে মাটির তলায়, আহত ৪
ধানবাদ, ২৪ এপ্রিল (হি.স.): ঝাড়খণ্ডের ধানবাদ জেলার বাঘমারা ব্লকের সোনারডিহ ওপি এলাকার তান্দাবাড়ি গ্রামে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ফের ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনা ঘটল। এই ঘটনায় প্রায় ১০টি বাড়ি সম্পূর্ণভাবে মাটির তলায় চাপা পড়ে যায় এবং অন্তত ৪ জন আহত হন। তাঁদের ম
ধানবাদে ভয়াবহ ভূমিধস, টান্ডাবাড়ি বস্তিতে ১০টি বাড়ি ধসে মাটির তলায়, আহত ৪


ধানবাদ, ২৪ এপ্রিল (হি.স.): ঝাড়খণ্ডের ধানবাদ জেলার বাঘমারা ব্লকের সোনারডিহ ওপি এলাকার তান্দাবাড়ি গ্রামে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ফের ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনা ঘটল। এই ঘটনায় প্রায় ১০টি বাড়ি সম্পূর্ণভাবে মাটির তলায় চাপা পড়ে যায় এবং অন্তত ৪ জন আহত হন। তাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে শুক্রবার জানা গিয়েছে। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হঠাৎ বিকট শব্দে মাটি ধসে পড়তেই বাসিন্দারা প্রাণ বাঁচাতে ঘর ছেড়ে পালাতে শুরু করেন। বেশ কয়েকজন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়লেও স্থানীয়দের তৎপরতায় তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

খবর পেয়ে জেলা প্রশাসন এবং বিসিসিএল-এর আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও ত্রাণকাজ শুরু করেন। তবে এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশাসন ও বিসিসিএল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ দেখা যায়।

এক বাসিন্দা জানান, রাতের খাবারের প্রস্তুতি চলছিল, এমন সময় হঠাৎ বিকট শব্দে মাটি কাঁপতে শুরু করে। প্রাণ বাঁচাতে বাইরে বেরিয়ে আসতেই চোখের সামনে একের পর এক বাড়ি মাটির তলায় তলিয়ে যেতে দেখেন তাঁরা।

আরও এক বাসিন্দা বলেন, “আগেই আতঙ্কে দিন কাটছিল। আবার ভূমিধস হয়ে সবকিছু শেষ হয়ে গেল। কোনওমতে প্রাণে বেঁচে গেছি। আমাদের নিরাপদ জায়গায় পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হোক।”

স্থানীয়দের দাবি, তান্দাবাড়ি গ্রামে এটি তৃতীয়বারের মতো ভূমিধসের ঘটনা। এর আগে প্রথম ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছিল এবং সম্প্রতি দ্বিতীয় ঘটনায় একাধিক বাড়িতে ফাটল দেখা দিয়েছিল। ফলে বাসিন্দারা আগে থেকেই নিরাপদ স্থানে যাওয়ার কথা ভাবছিলেন।

এদিকে, বিসিসিএল-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘদিন ধরে কয়লা উত্তোলনের ফলে মাটির ভিত ফাঁপা হয়ে যাওয়ায় এই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে। বহু প্রজন্ম ধরে বসবাস করা এই জমি এখন বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত বাঘমারা এলাকার দায়িত্বে থাকা প্রশাসনিক আধিকারিক গিরিজা নন্দ কিস্কু জানিয়েছেন, প্রায় ২১টি পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। তাঁদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলটিকেও অন্যত্র স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঘনঘন ভূমিধসের ঘটনায় বাসিন্দাদের জীবন ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande