নারী সংরক্ষণ বিল নিয়ে আগরতলায় বিজেপির বিক্ষোভ মিছিল, রাহুল গান্ধীর কুশপুত্তলিকাও দাহ
আগরতলা, ২৫ এপ্রিল (হি.স.) : নারী সংরক্ষণ ইস্যুতে রাজনৈতিক চাপানউতোরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ত্রিপুরার রাজনীতি। ‘নারী শক্তি অধিনিয়ম’ বিল নিয়ে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের অবস্থানের প্রতিবাদে শনিবার রাজধানী আগরতলায় বিক্ষোভ মিছিল করল শাসক দল ভারতীয
মহিলা মোর্চার মিছিল


আগরতলা, ২৫ এপ্রিল (হি.স.) : নারী সংরক্ষণ ইস্যুতে রাজনৈতিক চাপানউতোরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ত্রিপুরার রাজনীতি। ‘নারী শক্তি অধিনিয়ম’ বিল নিয়ে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের অবস্থানের প্রতিবাদে শনিবার রাজধানী আগরতলায় বিক্ষোভ মিছিল করল শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দলের অভিযোগ, বিরোধী শিবিরের অবস্থান নারীদের রাজনৈতিক অধিকার ও ক্ষমতায়নের পথে অন্তরায় সৃষ্টি করছে।

এদিন বিজেপি-র মহিলা শাখা ‘মহিলা মোর্চা’র উদ্যোগে আয়োজিত এই মিছিলে হাজারো কর্মী-সমর্থক অংশ নেন। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা প্রদক্ষিণ করে মিছিলটি এগিয়ে যায়। হাতে প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে আগরতলার রাজপথ। মিছিল চলাকালীন বিরোধী জোট এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে তীব্র স্লোগান তোলা হয়। পাশাপাশি প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে তাঁর কুশপুত্তলিকাও দাহ করা হয়।

এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা বলেন, নারীদের জন্য সংরক্ষণের বিধান রাখা এই বিলটি বাস্তবায়নের আগে কিছু প্রয়োজনীয় সংশোধনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল। তাঁর কথায়, “নারী শক্তি অধিনিয়ম অতীতে প্রণীত হলেও বাস্তবায়নের আগে কেন্দ্র সরকার বুঝতে পারে যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন দরকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই প্রক্রিয়াকে দ্রুত এগিয়ে নিতে চেয়েছিলেন এবং এক্ষেত্রে ২০১১ সালের জনগণনার তথ্য ব্যবহারের প্রস্তাব দেন। কিন্তু কংগ্রেস এবং তাদের আঞ্চলিক মিত্ররা এর বিরোধীতা করায় বিলটি পাস হয়নি।”

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, এই অবস্থান নারীদের প্রতি অবিচারের শামিল এবং সেই কারণেই বিজেপি রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানাতে বাধ্য হয়েছে।

অন্যদিকে, বিজেপি ত্রিপুরা প্রদেশ সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য অভিযোগ করেন, বিরোধী দলের নেতিবাচক মনোভাবের কারণেই নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের এই গুরুত্বপূর্ণ বিলটি আটকে রয়েছে। তিনি বলেন, “এই বিল কার্যকর হলে সংসদ ও রাজ্য বিধানসভায় নারীদের প্রতিনিধিত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেত এবং রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও তাদের অংশগ্রহণ আরও শক্তিশালী হতো।”

বিজেপি ত্রিপুরা মহিলা মোর্চার সভানেত্রী তথা প্রাক্তন বিধায়ক মিমি মজুমদারও বিরোধীদের কড়া ভাষায় সমালোচনা করে বলেন, “নারী অধিকার নিয়ে যারা বড় বড় কথা বলে, তারাই বাস্তবে নারীদের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।”

দিনভর শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ছোট-বড় একাধিক মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণকারীরা নারীদের সংরক্ষণের দাবিতে স্লোগান তোলেন এবং বিরোধী জোটের অবস্থানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande