
অম্বিকাপুর, ২৬ এপ্রিল (হি.স.): ছত্তিশগড়ের অম্বিকাপুরের প্লাস্টিক ও আতশবাজির গুদামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রবিবার বড় পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। গুদামের মালিক মুকেশ আগরওয়াল ও প্রবীণ আগরওয়ালের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার ৫৫ ঘণ্টা পরও ভবনের ভিতরে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। প্রশাসন যৌথ তদন্তকারী দল গঠন করে ৭ দিনের মধ্যে রিপোর্ট চেয়েছে।
থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন প্রফুল্ল পাণ্ডে, তাঁর বাড়িও আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। অভিযোগ, বিপুল পরিমাণ আতশবাজি ও দাহ্য পদার্থ মজুত রাখার ফলেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং বিস্ফোরণে আশপাশের এলাকা কেঁপে ওঠে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গত ২৩ এপ্রিল দুপুর ১২টা নাগাদ রাম মন্দিরের সামনে একটি গলিতে অবস্থিত ‘মুকেশ প্লাস্টিক’ নামে একটি পাইকারি দোকানে আগুন লাগে। লিফট বসানোর সময় গ্যাস ওয়েল্ডিং থেকে নির্গত স্ফুলিঙ্গ প্লাস্টিক ও থার্মোকলের সংস্পর্শে এসে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে তা নিচের তলায় ছড়িয়ে পড়ে এবং গুদামে মজুত আতশবাজির কারণে একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আগুন লাগার কিছুক্ষণের মধ্যেই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ শুরু হয় এবং ঘন কালো ধোঁয়া প্রায় ১০ কিলোমিটার দূর থেকেও দেখা যায়। অল্প সময়ের মধ্যেই দুই থেকে তিনতলা ভবনটি সম্পূর্ণ আগুনের গ্রাসে চলে যায়।
দমকল বাহিনীর একাধিক দল ঘণ্টার পর ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। প্রায় ১০০-১১০ ট্যাঙ্কার জল ব্যবহার করা হয়। তবুও ভিতরের অংশে দীর্ঘ সময় ধরে আগুন জ্বলতে থাকে। ১৭-১৮ ঘণ্টা পরে আগুন আংশিক নিয়ন্ত্রণে এলেও উপরের তলা থেকে ধোঁয়া বেরোতে থাকে এবং ভবনের বড় অংশ ধসে পড়ে।
এই অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৫-৬টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রফুল্ল পাণ্ডের বাড়ির ভিতরের অংশ সম্পূর্ণ পুড়ে যায় এবং দেওয়ালে ফাটল দেখা দেয়। তিনতলা ভবনটি এখন মাত্র দুটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে, ফলে যে কোনও সময় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এহেন পরিস্থিতিতে আশপাশের বাড়িগুলি খালি করে দেওয়া হয় এবং বহু পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। কিছু পরিবার রাম মন্দিরের আশ্রমে আশ্রয় নেয়। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় এলাকায় অন্ধকারের জন্য চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়।
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ঘটনায় কোনও প্রাণহানি হয়নি। তবে গুদামে থাকা বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক ও আতশবাজি সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে কয়েক কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে জেলা প্রশাসন এসডিএম, সিএসপি ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি যৌথ তদন্তকারী দল গঠন করেছে, যারা সাত দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেবে। পাশাপাশি, নগর নিগমও পৃথকভাবে তদন্ত শুরু করেছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে। কংগ্রেস জেলা সভাপতি বালকৃষ্ণ পাঠকের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল জেলা শাসকের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবৈধভাবে পটকা মজুত করা হয়েছিল, যা প্রশাসনিক গাফিলতিরই ফল।
এদিকে, মন্ত্রী রাজেশ আগরওয়ালের মন্তব্য ঘিরেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তিনি দাবি করেছিলেন, গোডাউনে আতশবাজি থাকলে পুরো এলাকা উড়ে যেত। কংগ্রেস এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে বলেছে, বাস্তব পরিস্থিতি আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁদের দাবি, ঘটনার সময়কার ভিডিওতে স্পষ্টভাবে বাজি বিস্ফোরণ হতে দেখা গিয়েছে।
বর্তমানে পুলিশি তদন্ত, প্রশাসনিক পদক্ষেপ এবং রাজনৈতিক চাপ—সব মিলিয়ে অম্বিকাপুরের এই অগ্নিকাণ্ড ঘিরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য