
বিলাসপুর/রায়পুর, ২৬ এপ্রিল (হি.স.): ছত্তিশগড়ের বিলাসপুর জেলার মালহার এলাকায় বাসিন্দা সঞ্জীব পাণ্ডের কাছে প্রায় ২০০০ বছরের পুরনো, প্রায় ৩ কেজি ওজনের একটি প্রাচীন তাম্রপত্রের সন্ধান মিলেছে। সম্প্রতি ‘জ্ঞান ভারতম্’ অভিযানের আওতায় এই গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্বিক বস্তুটি সামনে আসে| এই অভিযানের উদ্দেশ্য দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা প্রাচীন পাণ্ডুলিপি ও ঐতিহাসিক দলিল খুঁজে বের করে সংরক্ষণ করা।
ইতিহাসবিদদের মতে, এই তাম্রপত্র প্রাচীন যুগে ভূমি দান, রাজার নির্দেশ বা ধর্মীয় ঘোষণার দলিল হিসেবে ব্যবহৃত হত। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এতে তৎকালীন সামাজিক ও প্রশাসনিক কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য লুকিয়ে থাকতে পারে।
জানা গেছে, তাম্রপত্রটি পালি ভাষায় লেখা এবং ব্রাহ্মী লিপি ব্যবহার করা হয়েছে। প্রাচীন ভারতে, বিশেষ করে বৌদ্ধ ও মৌর্য যুগে পালি ছিল সাধারণ মানুষের ভাষা এবং ধর্মীয় শিক্ষার প্রধান মাধ্যম। ব্রাহ্মী লিপি থেকেই পরবর্তীকালে দেবনাগরী-সহ বহু ভারতীয় লিপির উদ্ভব হয়েছে। লিপির গঠন ও অক্ষরের শৈলী বিচার করে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি খ্রিস্টপূর্ব প্রথম শতাব্দী বা তার কিছু পরের সময়ের।
বর্তমানে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ও ‘জ্ঞান ভারতম্’ অভিযানের বিশেষজ্ঞরা তাম্রপত্রটি পরিষ্কার করে প্রতিটি অক্ষর পাঠোদ্ধারের কাজ করছেন। সম্পূর্ণ অনুবাদ শেষ হলে তবেই জানা যাবে, এতে কোন শাসকের উল্লেখ রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পালি ভাষা ও ব্রাহ্মী লিপির এই সংমিশ্রণ তাম্রপত্রটির প্রায় ২০০০ বছরের প্রাচীনতার শক্তিশালী প্রমাণ বহন করে। উল্লেখযোগ্য, মালহার (প্রাচীন নাম প্রসন্নপুর) অতীতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও ধর্মীয় কেন্দ্র ছিল। এই আবিষ্কার সেই সময়কার সমাজ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে বুঝতে নতুন দিশা দিতে পারে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এ ধরনের তাম্রপত্র প্রাচীন কালে ভূমি অনুদান, প্রশাসনিক নির্দেশ বা ধর্মীয় ঘোষণা লিপিবদ্ধ করার জন্য ব্যবহৃত হত। বিস্তারিত বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা হলে তৎকালীন শাসনব্যবস্থা, সমাজ ও ধর্মীয় চর্চা সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে।
এই আবিষ্কার ছত্তিশগড়ের সমৃদ্ধ প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্যকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে। প্রত্নতত্ত্ববিদদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে যথেষ্ট উৎসাহ দেখা যাচ্ছে এবং একে জাতীয় স্তরের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি এই ধরনের ঐতিহ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষণের কাজও চলছে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ভারতের জ্ঞানভাণ্ডারের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য