দিল্লিতে তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় জোর সরকারের
নয়াদিল্লি, ২৬ এপ্রিল (হি.স.): দেশের জাতীয় রাজধানীতে বাড়তে থাকা তাপমাত্রা ও তীব্র তাপপ্রবাহের পরিস্থিতির মধ্যে ‘হিট ওয়েভ অ্যাকশন প্ল্যান ২০২৬’ আরও ভালভাবে কার্যকর করতে নির্দেশ দিলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা। সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে মুখ্যমন্ত্রী
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা


নয়াদিল্লি, ২৬ এপ্রিল (হি.স.): দেশের জাতীয় রাজধানীতে বাড়তে থাকা তাপমাত্রা ও তীব্র তাপপ্রবাহের পরিস্থিতির মধ্যে ‘হিট ওয়েভ অ্যাকশন প্ল্যান ২০২৬’ আরও ভালভাবে কার্যকর করতে নির্দেশ দিলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা।

সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এ বছর আগের তুলনায় আরও বিজ্ঞানসম্মতভাবে পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে স্কুল পড়ুয়া, নির্মাণ শ্রমিকদের জন্য| পাশাপাশি পশু-পাখির জন্যও পানীয় জলের ব্যবস্থা থাকছে। তাপপ্রবাহে আক্রান্তদের জন্য বিশেষ দলও মোতায়েন করা হচ্ছে।

দিল্লির ‘থার্মাল হটস্পট’ ও ‘হিট আইল্যান্ড’ অঞ্চলগুলিকে চিহ্নিত করে সেখানে আলাদা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গত ২-৩ বছরে টানা প্রায় ৪০ দিন তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির উপরে থাকার প্রবণতা দেখা গিয়েছে। স্যাটেলাইট ডাটার ভিত্তিতে দক্ষিণ দিল্লির আয়ানগর, পশ্চিম দিল্লির নজফগড়, সফদরজং-সহ একাধিক এলাকা অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

এইসব এলাকায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অতিরিক্ত ওআরএস, কুইক রেসপন্স টিম, পানীয় জলের ট্যাঙ্কারের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি ওয়াজিরপুর, জাহাঙ্গীরপুরী, খেয়ালা, শাস্ত্রী পার্ক, বিশ্বাস নগর, হরকেশ নগর, হরি নগর ও দিল্লি গেট-সহ বিভিন্ন এলাকাকেও হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, ডিডিএ, শিক্ষা দফতর ও দিল্লি জল বোর্ড যেন শুধু মানুষের জন্য নয়, পশু-পাখির জন্যও জল ও ছায়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করে। পার্ক, বাস ডিপো ও স্কুলে পাখিদের জন্য জলের পাত্র ও ভবঘুরে পশুর জন্য জলাধার তৈরি করা হচ্ছে।

স্কুল পড়ুয়াদের সুরক্ষায় প্রয়োজনে স্কুল ছুটির আগে ওআরএস খাইয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তীব্র গরমে নির্মাণ শ্রমিকদের জন্য দুপুর ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত বাইরের কাজ বন্ধ রাখা হতে পারে। শ্রমিকদের জন্য টুপি, গামছা, প্রাথমিক চিকিৎসা ও আইস প্যাকের ব্যবস্থাও রাখা হবে।

সরকার ‘কুল রুফ পলিসি ২০২৬’-এর দিকেও এগোচ্ছে। কাশ্মীরি গেট আইএসবিটিতে রিফ্লেকটিভ কোটিং করা হয়েছে। বাসস্টপে ‘মিস্টিং সিস্টেম’ এবং শহর ঠান্ডা রাখতে ‘অ্যান্টি-স্মগ গান’ ব্যবহারের পরিকল্পনাও রয়েছে।

স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, ১৩টি জেলায় ৩৩৯টির বেশি স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে সতর্ক রাখা হয়েছে এবং ৩০টির বেশি হাসপাতালে বিশেষ ‘কুল রুম’ তৈরি করা হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে ১০৭৭, ১০৭০ বা ১১২ নম্বরে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া ৩৯টি কুইক রেসপন্স টিম ও প্রশিক্ষিত আশা কর্মীদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ব্যস্ত বাসস্টপ ও টার্মিনালে ঠান্ডা জল ও ওআরএস সরবরাহের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়েও কড়া নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এ বছর চাহিদা ৯,০০০ মেগাওয়াট ছাড়াতে পারে বলে অনুমান। বিদ্যুৎ সংস্থাগুলিকে জানানো হয়েছে, সরবরাহে কোনও ঘাটতি বরদাস্ত করা হবে না।

হাসপাতাল, জল পরিশোধন কেন্দ্র ও মোবাইল টাওয়ারের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ২৪ ঘণ্টা নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিশেষ প্রোটোকল চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতির জন্য অতিরিক্ত কুইক রেসপন্স টিম ও মোবাইল ট্রান্সফরমার প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande