‘দিয়াশী গণহত্যা’ মামলায় ৪৫ জনের শর্তসাপেক্ষে জামিন
ঝাড়গ্রাম, ২৬ এপ্রিল (হি.স.): প্রায় তিন দশক পুরনো ‘দিয়াশী গণহত্যা’ মামলায় বড় মোড়। ছয়জন সিপিএম কর্মীকে নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ৪৫ জন অভিযুক্তকে শর্তসাপেক্ষে জামিন মঞ্জুর করল হাই কোর্ট। শনিবার সন্ধ্যায় সংশোধনাগার থেকে মুক্তি পা
‘দিয়াশী গণহত্যা’ মামলায় ৪৫ জনের শর্তসাপেক্ষে জামিন


ঝাড়গ্রাম, ২৬ এপ্রিল (হি.স.): প্রায় তিন দশক পুরনো ‘দিয়াশী গণহত্যা’ মামলায় বড় মোড়। ছয়জন সিপিএম কর্মীকে নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ৪৫ জন অভিযুক্তকে শর্তসাপেক্ষে জামিন মঞ্জুর করল হাই কোর্ট। শনিবার সন্ধ্যায় সংশোধনাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর শিলদা এলাকায় তাঁদের সংবর্ধনা দিয়ে মিছিল করে তৃণমূল।

জানা গিয়েছে, এক গ্রামীন হাতুড়ে চিকিৎসক-সহ মোট ছয়জন সিপিএম কর্মীকে খুন করে তাঁদের দেহ জলে ভাসিয়ে দেওয়ার ঘটনায় ঝাড়গ্রামের অতিরিক্ত দ্বিতীয় জেলা ও দায়রা আদালত ৪৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। পরে এই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন জানানো হয়। গত ২১ এপ্রিল হাইকোর্ট শর্তসাপেক্ষে তাঁদের জামিন মঞ্জুর করে।

শনিবার সংশোধনাগার থেকে মুক্তির পর শিলদা বাজারে অভিযুক্তদের মালা পরিয়ে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। মিছিলে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল নেতা ছত্রধর মাহাতো, বেলপাহাড়ি ব্লক তৃণমূল সভাপতি বুবাই মাহাতো এবং মহিলা তৃণমূল নেত্রী নিয়তি মাহাতো।

উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সালের ৮ মে বেলপাহাড়ি ব্লকের দিয়াশী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয়ভাবে ‘দিয়াশী গণহত্যা’ নামে পরিচিত। অভিযোগ, তৎকালীন অতিরিক্ত জেলাশাসক মহেন্দ্রনাথ হেমব্রম খুনের ঘটনার পাল্টা হিসেবে এই হামলা চালানো হয়। ওই ঘটনায় দিয়াশী গ্রামের ভক্তিপদ মাহাতো, কার্তিক মাহাতো, বিদ্যুৎ মাহাতো, মাধব মাহাতো, হিজলা গ্রামের মনোজ গড়াই এবং শিলদার হাতুড়ে চিকিৎসক সমীর মুখোপাধ্যায়-সহ ছয়জনকে জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।

ঘটনার দিনই ভক্তিপদ মাহাতোর বাবা নিত্যানন্দ মাহাতো বেলপাহাড়ি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় মোট ১৫০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। এর মধ্যে ১০৩ জনকে গ্রেফতার করা হলেও পরে তাঁরা জামিনে মুক্তি পান। তদন্ত শেষে ১৯৯৩ সালের ২১ অগস্ট ১০৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়।

পরবর্তী সময়ে বিচার প্রক্রিয়ায় ৪৫ জন অংশ নেন। বাকি অভিযুক্তদের মধ্যে ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৯ জন এখনও পলাতক বলে জানা গিয়েছে। ২০২৫ সালের ১০ জুন মামলাটি ঝাড়গ্রামের অতিরিক্ত দ্বিতীয় জেলা ও দায়রা আদালতে স্থানান্তরিত হয়। ১৭ জুলাই চার্জ গঠন এবং ১৮ আগস্ট থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। পুলিশ, চিকিৎসক ও স্থানীয়দের মিলিয়ে মোট ১৫ জন সাক্ষী আদালতে জবানবন্দি দেন।

গত ৮ ডিসেম্বর আদালত ৪৫ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে এবং ১০ ডিসেম্বর তাঁদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়। পরবর্তীতে অভিযুক্তদের পরিবারের পক্ষ থেকে হাই কোর্টে জামিনের আবেদন জানানো হলে আদালত শর্তসাপেক্ষে তাঁদের জামিন মঞ্জুর করে।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোপেশ মাহাতো




 

 rajesh pande