অসমের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ধৃত আরও ২০ জন অনুপ্রবেশকারী, রাতারাতি পুশব্যাক
গুয়াহাটি, ২৬ এপ্রিল (হি.স.) : অসমের ভারত-বাংলাদেশে সীমান্তে তরুণ-তরুণী, শিশু, প্রবীণ-প্রবীণা এবং মধ্য বয়স্ক মহিলা সহ আরও ২০ জন অবৈধ বাংলাদেশিকে পাকড়াও করে রাতারাতি তাদের স্বদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। অসমের মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা তাঁর অফিশ
অসমের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ধৃত অনুপ্রবেশকারী


গুয়াহাটি, ২৬ এপ্রিল (হি.স.) : অসমের ভারত-বাংলাদেশে সীমান্তে তরুণ-তরুণী, শিশু, প্রবীণ-প্রবীণা এবং মধ্য বয়স্ক মহিলা সহ আরও ২০ জন অবৈধ বাংলাদেশিকে পাকড়াও করে রাতারাতি তাদের স্বদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

অসমের মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা তাঁর অফিশিয়াল সামাজিক মাধ্যম এক্স হ্যান্ডলে এ খবর দিয়েছেন। তিনি জানান, রাতারাতি ২০ জন অবৈধ বাংলাদেশি নাগরিককে সীমান্ত পার করে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এক্স-এ ড. শর্মা একটি হিন্দি প্রবাদ ‘লাঠোঁ কে ভূত বাতোঁ সে নেহি মানতে’ উদ্ধৃত করেছেন। প্রবাদের অর্থ প্রায় এমন, ‘যারা কেবল লাঠি-ব্যবস্থাই বোঝে, তাদের কথায় বোঝানো যায় না।’ এই প্রবাদের মাধ্যমে তিনি স্বেচ্ছায় রাজ্য ছাড়তে অস্বীকার করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের যৌক্তিকতা তুলে ধরেন।

ড. শর্মা লিখেছেন, ‘অসম থেকে অনুপ্রবেশকারীদের বহিষ্কার করার সময় আমরা নিজেদের এই কথাটি বারবার স্মরণ করিয়ে দিই, যারা স্বইচ্ছায় যেতে চায় না।’ তিনি আরও বলেন, অসম লড়াই চালিয়ে যাবে এবং এ ধরনের পুশব্যাক অভিযানও চলতে থাকবে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, নিরাপত্তা বাহিনী প্রতিদিন প্রায় ২০ থেকে ৩০ জন অবৈধ অভিবাসীকে অসম সীমান্ত দিয়ে ফেরত পাঠাচ্ছে। তিনি স্বীকার করেন, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বৃহৎ পরিসরে বহিষ্কার করা বাস্তবে সহজ নয়।

ড. হিমন্তবিশ্ব তাঁর সরকারের সামগ্রিক কৌশলকে ‘নাগরিক অবাধ্যতা ও অসহযোগ’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন, যা মহাত্মা গান্ধীর ভাবধারা দ্বারা অনুপ্রাণিত। এর লক্ষ্য হলো, শুধুমাত্র বলপূর্বক বহিষ্কারের ওপর নির্ভর না করে এমন পরিস্থিতি তৈরি করা, যাতে অবৈধ অভিবাসীদের জন্য রাজ্যে থাকা কঠিন হয়ে ওঠে।

এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী অবৈধ অভিবাসী এবং অসমের স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে পার্থক্য করার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, স্থানীয় মুসলিমদের হয়রানি করা উচিত নয়, তাঁদের নাম করে অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয় দেওয়াও গ্রহণযোগ্য নয়।

এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, গত ২১ এপ্রিল ভোররাতে আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অসমে প্রবেশের সময় বিএসএফ-এর হাতে ধরা পড়েছিল ১৬ জন অনুপ্ৰবেশকারী বাংলাদেশি নাগরিক। তরুণ-তরুণী, প্রবীণ-প্রবীণা এবং মধ্য বয়স্ক মহিলা সহ ধৃত ১৬ জন অনুপ্ৰবেশকারীকে সেদিনই তাঁদের নিজের দেশ বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছিল।

হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস




 

 rajesh pande