ঝড়ের রুদ্ররূপে বিধ্বস্ত ধর্মনগর, স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত
ধর্মনগর (ত্রিপুরা), ২৬ এপ্রিল (হি.স.) : হঠাৎ করেই আকাশের মুখ ভার। তারপরই যেন প্রকৃতির রুদ্ররূপ—রবিবার সন্ধ্যার আগে আচমকাই আছড়ে পড়ল কালবৈশাখীর তাণ্ডব। মুহূর্তের মধ্যে শান্ত, স্বাভাবিক ধর্মনগর শহর পরিণত হল আতঙ্ক, ধ্বংসের করুণ ছবিতে। প্রবল দমকা হাও
ঝড়ে লণ্ডভণ্ড ধর্মনগর


ধর্মনগর (ত্রিপুরা), ২৬ এপ্রিল (হি.স.) : হঠাৎ করেই আকাশের মুখ ভার। তারপরই যেন প্রকৃতির রুদ্ররূপ—রবিবার সন্ধ্যার আগে আচমকাই আছড়ে পড়ল কালবৈশাখীর তাণ্ডব। মুহূর্তের মধ্যে শান্ত, স্বাভাবিক ধর্মনগর শহর পরিণত হল আতঙ্ক, ধ্বংসের করুণ ছবিতে।

প্রবল দমকা হাওয়া, বজ্রসহ বৃষ্টি আর ঝড়ের প্রচণ্ড গতিতে কেঁপে উঠল শহরের একাধিক এলাকা। যেন চোখের পলকে ভেঙে পড়ল মানুষের বহুদিনের গড়ে তোলা জীবিকা। অফিস টিলা এলাকায় এক ক্ষুদ্র খাবারের দোকান ঝড়ের আঘাতে কার্যত মাটির সঙ্গে মিশে যায়। দোকানের টিনের ছাউনি উড়ে যায়, কাঠামো ভেঙে পড়ে ভিতরে—চোখের সামনে নিজের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হতে দেখে নির্বাক হয়ে পড়েন দোকান মালিক। তাঁর চোখে তখন শুধু হতাশা আর অনিশ্চয়তার ছায়া।

জুরি ব্রিজ সংলগ্ন এলাকাতেও একই দৃশ্য। দুটি দোকান মুহূর্তের মধ্যে ঝড়ের কবলে পড়ে ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। ঝড়ের তীব্রতা এতটাই ছিল যে, আশপাশের মানুষজন নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটে বেড়াতে বাধ্য হন। কয়েক মিনিটের মধ্যেই হাসিখুশি বাজার এলাকা পরিণত হয় ভাঙাচোরা কাঠ, টিন আর ধ্বংসস্তূপের স্তূপে। স্থানীয়দের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে চরম আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা।

অন্যদিকে দীঘল বাঁক এলাকায় এক বিশাল গাছ ভেঙে সোজা রাস্তায় পড়ে যায়। আচমকা এই ঘটনায় পুরো এলাকায় যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। রাস্তার দু’পাশে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়, বিপাকে পড়েন সাধারণ মানুষ। পরে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দমকল বাহিনী। ঝড় থামার আগেই জীবন বাজি রেখে গাছ কেটে রাস্তা পরিষ্কার করেন তাঁরা। তাঁদের তৎপরতায় ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয় পরিস্থিতি।

এই আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে ছুটির দিনের স্বস্তি মুহূর্তেই বদলে যায় দুর্ভোগে। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা, ভাঙাচোরা রাস্তা, ক্ষতিগ্রস্ত দোকানপাট—সব মিলিয়ে জনজীবন হয়ে পড়ে বিপর্যস্ত। বহু মানুষ তাঁদের দৈনন্দিন রুটিন ছেড়ে আটকে পড়েন অনিশ্চয়তার মধ্যে।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande