
কদমতলা (ত্রিপুরা), ২৬ এপ্রিল (হি.স.) : উত্তর ত্রিপুরার শান্ত জনপদ কদমতলা হঠাৎই এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন, তারপর সন্তানের জন্ম—এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে ছড়িয়েছে তীব্র ক্ষোভ, আবেগ ও উত্তেজনা।
অভিযোগ, প্রায় নয় মাস আগে কাজ সেরে বাড়ি ফেরার পথে পশ্চিম ইছাই লালছড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের টুলগাঁও এলাকার বাসিন্দা জয়নাল উদ্দিন জনৈকা বিধবার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। ওই মহিলার দাবি, সেই সময়ই তাঁকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন অভিযুক্ত এবং তাঁর আগের দুই সন্তানসহ তাঁকে নিজের ঘরে তুলে নেওয়ার আশ্বাস দেন।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই প্রতিশ্রুতি ধীরে ধীরে ভেস্তে যায়। এদিকে মহিলাটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে অভিযুক্ত বারবার সন্তানকে স্বীকার করার কথা বললেও বাস্তবে তার কোনও প্রমাণ মেলেনি। রবিবার সকালে পুত্র সন্তানের জন্ম দেন ওই মহিলা। নবজাতকের কান্নার সঙ্গে সঙ্গেই যেন ফেটে পড়ে এলাকার জমে থাকা ক্ষোভ।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় মানুষজনের একাংশ ক্ষোভে ফুঁসে ওঠেন এবং দ্রুত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে কদমতলা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মা ও নবজাতককে উদ্ধার করে স্থানীয় সামাজিক হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে তাদের চিকিৎসা চলছে।
মহিলা ও তাঁর পরিবারের স্পষ্ট দাবি—যেহেতু বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এই সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল, তাই অভিযুক্তকে আইনি স্বীকৃতি দিয়ে তাঁর দায়িত্ব নিতে হবে। অন্যদিকে, অভিযোগ উঠেছে, বিষয়টি চাপা দিতে অর্থের বিনিময়ে মীমাংসার চেষ্টা চলছে, যা নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের বক্তব্য, “এই ধরনের ঘটনা শুধু একজন মহিলার নয়, গোটা সমাজের জন্য লজ্জার। দোষীর কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত।”
এদিকে কদমতলা থানার অফিসার-ইনচার্জ গুরুপদ দেবনাথ জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ পেলেই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হবে এবং নির্যাতিতার পাশে থাকবে পুলিশ।
স্থানীয়দের দাবি, এই ঘটনায় একদিকে যেমন মানবিক বেদনা স্পষ্ট, অন্যদিকে তেমনি সমাজের নৈতিকতার প্রশ্নও উঠে এসেছে নতুন করে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ