প্রধান সাক্ষীকে প্রাণনাশের হুমকি, ধর্মনগরে খালেদ আহমেদ হত্যাকাণ্ডে ফের চাঞ্চল্য
ধর্মনগর (ত্রিপুরা), ২৬ এপ্রিল (হি.স.) : শোক, আতঙ্ক আর ক্ষোভ—এই তিনের ভারে যেন স্তব্ধ হয়ে আছে উত্তর ত্রিপুরার ধর্মনগর মহকুমার মঙ্গলখালি এলাকা। এক মাস পেরিয়ে গেলেও খালেদ আহমেদের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ক্ষত এখনও শুকায়নি; বরং নতুন করে সেই ক্ষতে নুনের ছি
দিলওয়ার হোসেন


ধর্মনগর (ত্রিপুরা), ২৬ এপ্রিল (হি.স.) : শোক, আতঙ্ক আর ক্ষোভ—এই তিনের ভারে যেন স্তব্ধ হয়ে আছে উত্তর ত্রিপুরার ধর্মনগর মহকুমার মঙ্গলখালি এলাকা। এক মাস পেরিয়ে গেলেও খালেদ আহমেদের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ক্ষত এখনও শুকায়নি; বরং নতুন করে সেই ক্ষতে নুনের ছিটে পড়ল প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায়।

গত ২১ মার্চ, পবিত্র ঈদের দিনে রক্তাক্ত পরিণতি হয় খালেদ আহমেদের জীবনের। উৎসবের আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হয় শোকে। পরিবারের আর্তনাদ আর এলাকাবাসীর ক্ষোভে সেদিন কেঁপে উঠেছিল গোটা মঙ্গলখালি। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের অশান্তির কালো ছায়া নেমে এসেছে এলাকাজুড়ে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই হত্যাকাণ্ডে মোট ১০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ জন ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হলেও এখনও ৪ জন অধরা। পলাতক অভিযুক্তদের খোঁজে পুলিশ লাগাতার অভিযান চালালেও, তাদের ধরা না পড়ায় আতঙ্ক কাটছে না সাধারণ মানুষের মধ্যে।

এরই মধ্যে সামনে এসেছে আরও উদ্বেগজনক অভিযোগ। নিহতের ভাগ্নে তথা মামলার প্রধান সাক্ষী দিলওয়ার হোসেনকে সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। আর এই অভিযোগের তীর উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দা নিজামুদ্দিনের দিকে, যাকে অভিযুক্তদের মদতদাতা হিসেবেও চিহ্নিত করা হচ্ছে।

দিলওয়ার হোসেনের দাবি, মামার হত্যার পর থেকেই অভিযুক্তদের আশ্রয় ও সহযোগিতা করে আসছিলেন নিজামুদ্দিন। সেই নিয়ে প্রতিবাদ করতেই তাঁর দিকে ছুটে আসে হুমকির ঝড়। শুধু হুমকিই নয়—খালেদ আহমেদের মতোই তাঁকেও একই পরিণতির মুখে পড়তে হবে বলে প্রকাশ্যে জানানো হয় বলে অভিযোগ।

পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় সম্প্রতি পুলিশের এক অভিযানের সময়। নিজামুদ্দিনের বাড়ি থেকে মণি মিয়া নামে এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হলে, সেখানে উপস্থিত ছিলেন দিলওয়ার হোসেন। অভিযোগ, তাঁকে দেখে উত্তেজিত হয়ে পড়েন নিজামুদ্দিন এবং সবার সামনে ফের প্রাণনাশের হুমকি দেন।

মামাকে হারানোর শোক এখনও তাজা। তার মধ্যেই নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন দিলওয়ার হোসেন। ইতিমধ্যেই তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর একটাই দাবি—“আমরা যেন বাঁচতে পারি, নিরাপদে থাকতে পারি।”

এদিকে, ঘটনায় একটি নতুন এফআইআর নথিভুক্ত করেছে পুলিশ। তবে প্রশ্ন উঠছে, বাকি অভিযুক্তদের গ্রেফতার কবে? আর সাক্ষীর নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত করা যাচ্ছে?

মঙ্গলখালির বাতাসে এখন ভয় আর অনিশ্চয়তার গন্ধ। সন্ধ্যা নামলেই যেন অচেনা আতঙ্ক গ্রাস করছে মানুষকে। ঘরের দরজা বন্ধ করেও মিলছে না স্বস্তি। এলাকাবাসীর একটাই আর্তি—দোষীদের দ্রুত শাস্তি। একটি হত্যাকাণ্ড যে কতগুলো জীবনের শান্তি কেড়ে নিতে পারে, মঙ্গলখালি আজ তার নির্মম উদাহরণ বলে দাবি স্থানীয়দের।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande