
আসানসোল, ২৭ এপ্রিল (হি.স.) : রাজ্যে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি এবং নির্বাচনী হিংসা নিয়ে ফের সরব হলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা বহরমপুরের কংগ্রেস প্রার্থী অধীর রঞ্জন চৌধুরী। সোমবার আসানসোলে এসে প্রয়াত কংগ্রেস কর্মী দেবদীপ চট্টোপাধ্যায়ের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। শোকাতুর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি দেবদীপের বাবা, স্ত্রী ও সন্তানের সঙ্গে কথা বলে সব ধরনের সাহায্যের আশ্বাস দেন অধীর চৌধুরী। এরপরই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে “বোমা, ভয় এবং হিংসার রাজনীতি”-র অভিযোগ তোলেন তিনি।
অধীর চৌধুরী কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “যতদিন পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের শাসন থাকবে, ততদিন বোমা, পিস্তল, গুলি আর দুর্নীতির পরিবেশও বজায় থাকবে।” তাঁর দাবি, নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করতে এবং সাধারণ মানুষকে ভোটদান থেকে বিরত রাখতে পরিকল্পিতভাবে রাজ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। তৃণমূল নিজের হার নিশ্চিত জেনেই হিংসা ও অগ্নিসংযোগের পথে হাঁটছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এমনকি নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর এই হিংসার মাত্রা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
আসানসোলের কংগ্রেস কর্মী দেবদীপ চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যুকে ‘তৃণমূলের নির্মল হিংসার প্রতিফলন’ হিসেবে উল্লেখ করে অধীর চৌধুরী জানান, দেবদীপ ছিলেন পরিবারের একমাত্র অবলম্বন। তাঁর প্রয়াণে পরিবারটি সম্পূর্ণ অসহায় হয়ে পড়েছে। এই ঘটনার রেশ জাতীয় রাজনীতিতেও পৌঁছেছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। অধীরবাবু জানান, রাহুল গান্ধী সামাজিক মাধ্যমে স্পষ্ট ভাষায় দেবদীপের মৃত্যুকে “তৃণমূলের গুন্ডাবাহিনী”-র কাজ বলে অভিহিত করেছেন এবং দোষীদের শাস্তির দাবিতে কংগ্রেস শেষ পর্যন্ত লড়াই করবে বলে জানিয়েছেন।
রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রভাবিত করার অভিযোগ তুলে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বলেন, শাসক দলের কিছু নেতা ও মন্ত্রী এই ঘটনাকে লঘু করে দেখানোর চেষ্টা করছেন। এমনকি ময়নাতদন্তের রিপোর্ট বদলে দেওয়ার জন্য চিকিৎসকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। এই লড়াই প্রয়োজনে নিম্ন আদালত থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
দ্বিতীয় দফার ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করলেও রাজ্য পুলিশের ওপর অনাস্থা প্রকাশ করেন অধীর চৌধুরী। তিনি কেন্দ্রীয় বাহিনীকে পরামর্শ দেন যাতে তারা সম্পূর্ণভাবে রাজ্য পুলিশের তথ্যের ওপর নির্ভর না করে। প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বারবার বঙ্গ সফর নিয়েও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি তিনি। সব মিলিয়ে, নির্বাচনের প্রাক্কালে মৃত কর্মীর বাড়ি গিয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সুর আরও চড়ালেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি