
কলকাতা, ২৭ এপ্রিল ( হি. স.) : পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী আবহের মধ্যে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ভাঙড় বিধানসভা কেন্দ্রে রবিবার রাতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, যখন তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) প্রার্থী শওকত মোল্লার ওপর হামলার অভিযোগ সামনে আসে। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন তৃণমূল কর্মী আহত হয়েছেন। শওকত মোল্লা এই হামলাকে সুপরিকল্পিত বলে অভিহিত করেছেন এবং এর জন্য ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টকে (আইএসএফ) দায়ী করেছেন। তবে আইএসএফ এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে।
উল্লেখ্য যে, কয়েক দিন আগেই তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচনী প্রচারের সময় শওকত মোল্লার প্রাণহানির আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন এবং কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। রবিবার রাতের ঘটনার পর তাঁর সেই আশঙ্কাই জোরালো হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শওকত মোল্লা রবিবার রাতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় এলাকায় নির্বাচনী প্রচার শেষ করে ফিরছিলেন। চালতাবেড়িয়া অঞ্চলে প্রচার সেরে বাড়ি ফেরার পথেই তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে যে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ঘটনার প্রতিবাদে তৃণমূল কর্মী ও সমর্থকরা রাতে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। শওকত মোল্লা সরাসরি আইএসএফ-এর দিকে আঙুল তুলে বলেন যে, নির্বাচনের আগে অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে এবং এটি একটি পরিকল্পিত হামলা। তিনি পুলিশ প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি তুলেছেন।
অন্যদিকে, আইএসএফ এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে যে, এই ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনও সম্পর্ক নেই। দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, এলাকায় উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা খোদ তৃণমূলই করছে এবং নির্বাচনের আগে সাধারণ মানুষের সহানুভূতি পাওয়ার জন্য এই ধরনের অভিযোগ তোলা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ভাঙড় বিধানসভা কেন্দ্র দীর্ঘ সময় ধরেই রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এবং এখানে আগেও বহুবার হিংসাত্মক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, এলাকার উত্তেজনা এবং রাজনৈতিক অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি