বাইকের বিধিনিষেধ নিয়ে সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশে সামান্য সংশোধন ডিভিশন বেঞ্চের
কলকাতা, ২৭ এপ্রিল (হি.স.): চলতি বিধানসভা ভোটে দল বেঁধে মোটরবাইক নিয়ে ঘোরা নিষিদ্ধ করল কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি শম্পা সরকারের ডিভিশন বেঞ্চ। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হল, নির্বাচনী বিধি মেনে বাইক র্যালি বা দলবদ্ধভাবে বাইক চালানো নিষিদ্ধ। তবে এককভাবে বা
কলকাতা হাই কোর্ট


কলকাতা, ২৭ এপ্রিল (হি.স.): চলতি বিধানসভা ভোটে দল বেঁধে মোটরবাইক নিয়ে ঘোরা নিষিদ্ধ করল কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি শম্পা সরকারের ডিভিশন বেঞ্চ। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হল, নির্বাচনী বিধি মেনে বাইক র্যালি বা দলবদ্ধভাবে বাইক চালানো নিষিদ্ধ। তবে এককভাবে বাইক চালানোর ক্ষেত্রে কোনও বিধিনিষেধ থাকছে না। কমিশনের মোটরবাইক সংক্রান্ত নির্দেশিকা নিয়ে এর আগে বিচারপতি কৃষ্ণ রাও যে নির্দেশ দিয়েছিলেন, তার বাকিগুলি অপরিবর্তিত রেখেছে ডিভিশন বেঞ্চ। বিচারপতি রাওয়ের নির্দেশের বিরুদ্ধে ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছিল কমিশন। আদালত জানিয়েছে, এই নির্দেশিকা শুধু চলতি ভোটেই কার্যকর থাকবে।

বাইকের বিধিনিষেধ নিয়ে সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশে সামান্য পরিবর্তন আনল ডিভিশন বেঞ্চ। নাগরিকের অধিকার খর্ব না করে সোমবার থেকেই বাইক ব়্যালি ও একাধিক বাইক নিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করল কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি শম্পা সরকারের ডিভিশন বেঞ্চ। বিচারপতি জানান, কারওর ব্যক্তি স্বাধীনতায় আমরা হস্তক্ষেপ করতে পারি না। নির্বাচনের সময় বিহার ও অসমে এরকম নিষেধাজ্ঞা জারির কোনও উদাহরণ নেই। কমিশন এরকম উদাহরণ দেখাতে পারলে এ রাজ্যেও তাদের আবেদন বিবেচনা করা হত। গাড়ির ক্ষেত্রে কেন বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হবে না সেই প্রশ্নও তুলেছে হাই কোর্ট। তবে এর পাশাপাশি আদালত পুলিশকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে। বিচারপতি জানিয়েছেন, ব্যক্তিগতভাবে বাইক চালানোর আড়ালে যদি কেউ কোনও বিশৃঙ্খলা, অশান্তি বা গোলমাল পাকানোর চেষ্টা করেন, তবে পুলিশ নিজের ক্ষমতাবলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই প্রচারের ময়দানে রাজনৈতিক দলগুলির বাইক মিছিল এবং তার জেরে বিভিন্ন এলাকায় অশান্তির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কমিশন বিভিন্ন সময় নানা বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। সম্প্রতি বাইক চলাচলে একাধিক নিষেধাজ্ঞা জারি করে কমিশন। জরুরি কোনও ক্ষেত্র ছাড়া সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত বাইক চালানো নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়। কমিশনের এহেন বিজ্ঞপ্তিকে কেন্দ্র করেই বিতর্ক চরমে ওঠে। এই নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা দায়ের করা হয়। হাই কোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ বাইক সংক্রান্ত কমিশনের বিজ্ঞপ্তি খারিজ করে দেয়। ৭২ ঘণ্টার বাইক বন্ধের বিজ্ঞপ্তি খারিজ করে হাই কোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণ রাও জানান, ভোটগ্রহণের দিনের ১২ ঘণ্টা আগে থেকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইকের পিছনে যাত্রী নিয়ে চলাচল করা যাবে না। এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয় নির্বাচন কমিশন।

সোমবার ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি ছিল। বাইকের বিধিনিষেধ নিয়ে সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশে সামান্য পরিবর্তন করে ডিভিশন বেঞ্চ। আদালত জানিয়েছে, ভোটের আগে ৪৮ ঘণ্টা দল বেঁধে বাইক চালানো যাবে না। তবে কারওর ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে পারে না কমিশন। কেউ চাইলে বাইক নিয়ে বেরোতেই পারেন। তাতে বাধা দেওয়া যায় না।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌম্যজিৎ




 

 rajesh pande