
কলকাতা, ২৭ এপ্রিল (হি.স.): ছাত্র রাজনীতিতে আবারও নিজেদের আধিপত্য প্রমাণ করল বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলো। ইন্টার্নাল কো-অর্ডিনেশন কমিটি (আইসিসি) নির্বাচনে কলা, বিজ্ঞান এবং ইঞ্জিনিয়ারিং—তিন বিভাগেই বামপন্থী ধারার সংগঠনগুলোর বড় সাফল্য নজর কেড়েছে।
কলা বিভাগে একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রেখেছে ভারতের ছাত্র ফেডারেশন (এসএফআই)। এই বিভাগের দুটি আসনেই ২-০ ব্যবধানে জয়ী হয়েছে তারা। স্নাতক স্তরে প্রায় ৭৫০ এবং স্নাতকোত্তর স্তরে প্রায় ৬০০ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছে এসএফআই প্রার্থীরা। উল্টোদিকে, এসএফআই-এর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীদের প্রাপ্ত ভোট স্নাতকোত্তর স্তরে ১০০-র গণ্ডিও পেরোতে পারেনি। অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি) এই বিভাগে সেভাবে প্রভাব ফেলতে ব্যর্থ হয়েছে।
ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য বজায় রেখে নিজেদের গড় অটুট রেখেছে ডিএসএফ। দুটি আসনেই জয়ী হয়েছে তারা। তবে নজর কেড়েছে এসএফআই-এর ফল; এই বিভাগে তারা দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে এবং তাদের ভোট শতাংশ আগের তুলনায় অনেকটাই বেড়েছে। এনএসএফ এবং এবিভিপি যথাক্রমে তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে রয়েছে।
বিজ্ঞান বিভাগেও দাপট দেখিয়েছে বামপন্থী ধারার ছাত্র সংগঠন। এখানকার দুটি আসনেই তারা জয়ী হয়েছে। ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মতো এখানেও এসএফআই দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে এবং তাদের প্রাপ্ত ভোট উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ছাত্রমহলের একাংশের দাবি, বিজ্ঞান বিভাগে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ (টিএমসিপি) ও এবিভিপি কার্যত অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কলা বিভাগে জয়ের পাশাপাশি বিজ্ঞান ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে এসএফআই-এর ভোট বৃদ্ধি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। এই ফলাফলকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বামপন্থী ছাত্রছাত্রীদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে নির্বাচনের এই ফলাফল ও সমীকরণ নিয়ে আগামী দিনে রাজনৈতিক তরজা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
হিন্দুস্থান সমাচার / শুভদ্যুতি দত্ত