
নয়াদিল্লি, ২৬ এপ্রিল (হি.স.): আম আদমি পার্টি (এএপি) ত্যাগ করে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-তে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে এবার মুখ খুললেন রাজ্যসভা সাংসদ রাঘব চাড্ডা । সোমবার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করে তিনি নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দেন এবং সমালোচনার জবাবও দেন।
ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত ওই ভিডিওতে চাড্ডা বলেন, গত কয়েকদিন ধরে তিনি অসংখ্য বার্তা পাচ্ছেন। তাঁর কথায়, “গত তিন দিন ধরে আপনাদের কাছ থেকে অনেক মেসেজ পাচ্ছি। বেশিরভাগই শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছেন। আবার অনেকেই জানতে চাইছেন কেন আমি এই সিদ্ধান্ত নিলাম।”
চাড্ডা দাবি করেন, তিনি ১৫ বছর ধরে আম আদমি পার্টির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং নিজেকে দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের একজন হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষায়, “আমি রাজনীতিতে কেরিয়ার করতে আসিনি। আমি একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলাম। নিজের জীবনের ১৫ বছর এই দলের জন্য রক্ত, ঘাম ও পরিশ্রম দিয়ে দিয়েছি।” তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দল আর আগের মতো নেই। তাঁর অভিযোগ, “আজ এই দল আগের দল নেই। এখানে একটি টক্সিক ওয়ার্ক এনভায়রনমেন্ট তৈরি হয়েছে। আপনাকে কাজ করতে দেওয়া হয় না, সংসদে কথা বলতেও বাধা দেওয়া হয়।”
বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে চাড্ডা বলেন, তিনি নিজেকে ধীরে ধীরে দল থেকে বিচ্ছিন্ন মনে করছিলেন। তাঁর কথায়, তিনি “সঠিক মানুষ, কিন্তু ভুল দলে” ছিলেন। তিনি জানান, রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি একাধিক বিকল্প ভেবেছিলেন—রাজনীতি ছেড়ে দেওয়া, দলে থেকে সংস্কার আনা, অথবা অন্য রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে যাওয়া—শেষ পর্যন্ত তিনি দ্বিতীয়টি বেছে নেন।
তিনি আরও দাবি করেন, এটি একক সিদ্ধান্ত নয়। তাঁর ভাষায়, “একজন নয়, দু’জন নয়, তিনজন নয়, চারজন নয়, পাঁচজন নয়, ছয়জন নয়—সাতজন সাংসদ এই দল থেকে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।”
সমালোচকদের উদ্দেশে চাড্ডা বলেন, এটি ভয় বা চাপের কারণে নয়। তাঁর বক্তব্য, “আমরা ভয় থেকে নয়, হতাশা, বিচ্ছিন্নতা এবং বিতৃষ্ণা থেকে দল ছেড়েছি।”
তিনি আরও জানান, রাজনীতি থেকে সরে যাচ্ছেন না। বরং আরও সক্রিয়ভাবে জনসমস্যা তুলে ধরবেন।
এদিকে, দল ছাড়ার ঘোষণা ও বিজেপিতে যোগের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায় বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি পুরনো ভিডিও ও বিজেপি বিরোধী মন্তব্যও আবার সামনে আসে, যা রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও তীব্র করে তোলে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য