বিলোনিয়ায় রেশন ব্যবস্থায় কড়াকড়ি, ১০ ডিলারকে জরিমানা ও শোকজ নোটিশ
বিলোনিয়া (ত্রিপুরা), ২৭ এপ্রিল (হি.স.) : গণবন্টন ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করতে কড়া পদক্ষেপ নিল মহকুমা খাদ্য দফতর। সাধারণ মানুষ যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ন্যায্যমূল্যে সঠিক রেশন সামগ্রী পান, সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে বিলোনিয়া মহকুমাজুড়ে জোরদা
ত্রিপুরা সরকার


বিলোনিয়া (ত্রিপুরা), ২৭ এপ্রিল (হি.স.) : গণবন্টন ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করতে কড়া পদক্ষেপ নিল মহকুমা খাদ্য দফতর। সাধারণ মানুষ যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ন্যায্যমূল্যে সঠিক রেশন সামগ্রী পান, সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে বিলোনিয়া মহকুমাজুড়ে জোরদার অভিযান চালানো হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্যমূল্যের দোকানগুলির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠে আসছিল। অভিযোগগুলির মধ্যে রয়েছে—মাসের ১০ তারিখ পেরিয়ে যাওয়ার পরও রেশন সামগ্রী না পাওয়া, ওজনে কারচুপি, ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংক্রান্ত হয়রানি এবং ভোক্তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার। এইসব অভিযোগের ভিত্তিতে মহকুমা প্রশাসন বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়।

অভিযানে নিহার নগর, রাঙামুড়া, সুকান্ত নগর, মতাই, ঘোষখামার এবং ডিমাতলি এলাকায় মোট ১০ জন রেশন ডিলারের বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রমাণ মেলে। তাঁদের প্রত্যেককে শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছে এবং জরিমানাও আদায় করা হয়েছে।

অভিযানের সময় বিলোনিয়া শহরের কালীনগর মোটরস্ট্যান্ড সংলগ্ন একটি পেট্রোলিয়াম এজেন্সির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়। প্রয়োজনীয় রিটেইল সেলস লাইসেন্স জমা না দেওয়ায় সংস্থাটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত মহকুমা খাদ্য নিয়ামক মলয় চৌধুরী জানান, “সরকারি রেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে কোনও ভোক্তা যাতে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতে আমরা প্রতিনিয়ত নজরদারি চালাচ্ছি।”

মহকুমাী ডিসিএম সুকান্ত দে-কে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন রেশন দোকানে পরিদর্শনে গিয়ে একাধিক অনিয়ম ধরা পড়ে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ডিলাররা সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলে জানা গেছে।

ওজনে কারচুপি রোধ করতে প্রতিটি রেশন দোকানে ডিজিটাল ওজন পরিমাপ যন্ত্র সরবরাহ করা হয়েছে। এর ফলে ভোক্তারা নিজেরাই ওজন যাচাই করতে পারবেন। কোনও অভিযোগ পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

বর্তমানে ন্যায্যমূল্যের দোকানগুলিতে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী মজুত রয়েছে। তবে ভর্তুকি মূল্যে রান্নার তেল সরবরাহ আপাতত বন্ধ রয়েছে। এ বিষয়ে সরকারি নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছে দফতর।

খাদ্য নিয়ামক আরও জানান, যদি কোনও মাসে রেশন সামগ্রী দেরিতে পৌঁছায়, তবে তা পরবর্তী মাসে ভোক্তাদের মধ্যে বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নতুন পিভিসি কার্ড বিতরণ প্রক্রিয়াও চলছে। এখনও পর্যন্ত প্রায় ৫০ শতাংশ গ্রাহকের হাতে এই কার্ড পৌঁছেছে। নথিপত্র সংক্রান্ত সমস্যার কারণে কিছু ক্ষেত্রে বিলম্ব হলেও খুব শীঘ্রই সকল গ্রাহককে এই সুবিধার আওতায় আনা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande