
চুড়াইবাড়ি (ত্রিপুরা), ২৮ এপ্রিল (হি.স.) : উত্তর জেলা প্রশাসন এবং কদমতলা ব্লকের যৌথ উদ্যোগে মঙ্গলবার চুড়াইবাড়ির পিয়ারাছড়া বিদ্যালয় মাঠে আয়োজন করা হয় একদিবসীয় মেগা ‘উত্তর প্রগতিশীল মিলন মেলা’। মূলত বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তি তথা শারীরিক প্রতিবন্ধীদের বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা ও সহায়তা এক ছাতার তলায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই শিবিরের আয়োজন করা হয়।
সকাল এগারোটায় আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার উদ্বোধন করেন উত্তর জেলার জেলা শাসক চাঁদনী চন্দ্রান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কদমতলা ব্লকের ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসার উৎপল দাস, অতিরিক্ত মহকুমা শাসক হিমেন্দু বিকাশ পাল, জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক দীপক হালদারসহ অন্যান্য প্রশাসনিক ও স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকরা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পরেই সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। সমবেত ঝুমুর নৃত্য ও সমাজ সচেতনতা মূলক নাটক উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে বিশেষ সাড়া ফেলে এবং সামাজিক বার্তা পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কদমতলা ব্লকের অধীনস্থ মোট উনিশটি গ্রাম পঞ্চায়েতের বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের জন্য এই শিবিরে বিভিন্ন পরিষেবা প্রদান করা হয়। শতাধিক সুবিধাভোগীর উপস্থিতিতে মেলায় ইনকাম সার্টিফিকেট, ত্রিপুরার স্থায়ী বাসিন্দা সনদ, প্রতিবন্ধী শংসাপত্রসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি সরাসরি প্রদান করা হয়। পাশাপাশি বহু সুবিধাভোগীকে হুইলচেয়ারসহ অন্যান্য সহায়ক সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
এছাড়াও জেলার বিশিষ্ট চিকিৎসকদের উপস্থিতিতে প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্য শিবিরের আয়োজন করা হয়, যেখানে বিভিন্ন বিভাগে বিভক্ত করে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রাথমিক চিকিৎসা পরিষেবা প্রদান করা হয়।
মেলায় বিভিন্ন দফতরের পক্ষ থেকে একাধিক স্টল স্থাপন করা হয়, যাতে উপস্থিত সুবিধাভোগীরা সরকারি প্রকল্প ও পরিষেবা সম্পর্কে তথ্য জানতে এবং সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, যেসব প্রতিবন্ধী এখনও পর্যন্ত সরকারি ভাতা পাননি, তাদের ভাতা প্রাপ্তির প্রক্রিয়াও এই শিবিরের মাধ্যমে সহজতর করা হয়।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এদিন প্রবল বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও বিপুল সংখ্যক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি শিবিরে উপস্থিত হন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রত্যন্ত এলাকার বিশেষভাবে সক্ষম মানুষদের কাছে সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ