৭৪ কিমি বেগে তুফান, লণ্ডভণ্ড রাজধানী আগরতলা, বহু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত
আগরতলা, ২৮ এপ্রিল (হি.স.) : রাজধানী আগরতলায় মঙ্গলবার সকালেই তাণ্ডব চালাল দাপুটে ঝড়। প্রবল ঝড়-বৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুতের সঙ্গে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৭৪ কিলোমিটার বেগে বয়ে যাওয়া এই ঝড়ে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে
ঝড়ে তছনছ বাড়িঘর


আগরতলা, ২৮ এপ্রিল (হি.স.) : রাজধানী আগরতলায় মঙ্গলবার সকালেই তাণ্ডব চালাল দাপুটে ঝড়। প্রবল ঝড়-বৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুতের সঙ্গে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৭৪ কিলোমিটার বেগে বয়ে যাওয়া এই ঝড়ে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। বহু বাড়িঘর ও দোকানপাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, পাশাপাশি গাছ উপড়ে পড়ায় একাধিক রাস্তায় যান চলাচল ব্যাহত হয়।

আবহাওয়া দফতর আগেই এই ঝড়ের পূর্বাভাস দিয়েছিল। সোমবার জারি করা কমলা সতর্কতা বার্তায় জানানো হয়েছিল, পশ্চিম জেলার উপর দিয়ে বজ্রবিদ্যুৎ সহ প্রবল ঝড় বয়ে যেতে পারে এবং বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার থাকতে পারে। তবে মঙ্গলবার সকালে প্রকৃত পরিস্থিতি পূর্বাভাসকেও ছাড়িয়ে যায়।

মঙ্গলবার সকাল থেকেই আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন এবং মাঝে মাঝে দমকা হাওয়া বইছিল। সকাল ৮টা ২৬ মিনিট নাগাদ শুরু হয় ঝড়ের তাণ্ডব। আচমকা ঝড়ের দাপটে সাধারণ মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েন। ঝড়, শিলাবৃষ্টি ও বজ্রপাতের হাত থেকে বাঁচতে পথচারীরা যত্রতত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৮টা ৩৩ মিনিট থেকে ৮টা ৪২ মিনিট পর্যন্ত আগরতলার উপর দিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৭৪ কিলোমিটার বেগে ঝড় বয়ে যায়।

ঝড়ের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে দক্ষিণ রামনগর এলাকায়। সেখানে প্রায় ২০টির মতো ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। প্রবল ঝড়ে একটি বড় আমগাছ ভেঙে মূল সড়কের উপর পড়ে গেলে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। একই ঘটনায় অল্পের জন্য বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়—একটি ইলেকট্রনিক অটোর সামনে হঠাৎ করে ভেঙে পড়ে গাছের বিশাল ডাল। তবে ভাগ্যক্রমে গাড়ির চালক ও একমাত্র যাত্রী প্রাণে বেঁচে যান।

ঘটনায় ওই যাত্রী জানান, ঝড়ের তীব্রতা থেকে বাঁচতে গাড়িটি রাস্তার ধারে একটি আমগাছের নিচে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছিলেন চালক। ঠিক সেই সময়েই গাছের একটি বড় ডাল ভেঙে গাড়ির সামনে পড়ে। অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান তারা।

এদিকে, ক্ষয়ক্ষতির খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক আধিকারিকরা। দক্ষিণ রামনগরের কর্পোরেটর তথা মেয়র ইন কাউন্সিল তুষার কান্তি ভট্টাচার্যের উদ্যোগে তহশিলদার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

শুধু দক্ষিণ রামনগর নয়, শহরের গাঙ্গাইল রোড, কলেজ টিলা, অভয়নগর, নতুননগর সহ একাধিক এলাকায় গাছ পড়ে রাস্তা অবরুদ্ধ হওয়া, বাড়িঘরের টিন উড়ে যাওয়া এবং বিদ্যুৎ পরিষেবায় বিঘ্ন ঘটার খবর মিলেছে।

প্রশাসন ও বিদ্যুৎ নিগমের কর্মীরা দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ শুরু করেছেন। ঝড়ের পর শহরের বিভিন্ন এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং ভাঙা গাছ অপসারণের কাজ জোরকদমে চলছে।

এদিনের এই আকস্মিক ঝড় আবারও প্রমাণ করে দিল, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষেত্রে আগাম সতর্কতা ও প্রস্তুতির গুরুত্ব কতটা বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনগুলিতেও এ ধরনের ঝড়ের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না, ফলে সাধারণ মানুষকে আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande