
গুয়াহাটি, ২৮ এপ্রিল (হি.স.) : উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে বর্ষাকালে সুরক্ষিত ও বাধাহীন ট্রেন চলাচল নিশ্চিত করতে একাধিক কৌশলগত প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এই অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত, ভূমিধস ও বন্যার প্রবল ঝুঁকির জন্য, রেললাইনের অবস্থার ওপর নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি এবং কোনও বিপদ শনাক্ত হলে তাৎক্ষণিক সতর্কর্তা অবলম্বন করার লক্ষ্যে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে কৌশলগতভাবে স্থায়ী প্রহরী মোতায়েন করা হয়েছে। ধসপ্রবণ ও বন্যা-সংবেদনশীল এলাকাগুলিকে বাঁধ শক্তিশালীকরণ, উন্নত নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং প্রাকৃতিক জলপ্রবাহের পথ পরিষ্কার করার মাধ্যমে সুদৃঢ় করা হয়েছে। এছাড়াও, জলের স্তর বৃদ্ধি রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলিতে—বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকাগুলিতে—জলের স্তর পরিমাপক গেজ স্থাপন করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জল কিশোর শর্মা এ খবর দিয়ে জানান, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করার লক্ষ্যে, উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহে পাথর, বালির বস্তা এবং তারের জালের মতো ত্রাণসামগ্রী মোতায়েন করেছে। ‘ইমার্জেন্সি অন হুইলস’ ট্রেনগুলি সম্পূর্ণরূপে সুসজ্জিত থাকে এবং যে কোনও পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার জন্য কারিগরি কর্মী ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সহ প্রস্তুত রাখা হয়। ভূমিধস, রেললাইনে ধস এবং জলাবদ্ধতার মতো ঘটনাগুলি ন্যূনতম সময়ে মোকাবিলা করার লক্ষ্যে সমস্ত ডিভিশনে রেপিড রেসপন্স টিমও গঠন করা হয়েছে। এই টিমগুলিকে স্বাভাবিক কার্যক্রম শীঘ্রই বহাল রাখার জন্য প্রশিক্ষিত করা হয়েছে, যাতে যাত্রী ও পণ্যবাহী পরিষেবার বিঘ্ন ন্যূনতম পর্যায়ে থাকে।
২০২৬ সালের বর্ষাকালীন প্রস্তুতির অংশ হিসেবে, সমস্ত ডিভিশনে কৌশলগতভাবে বিপুল পরিমাণ সামগ্রী মুজুত করা হয়েছে। লামডিং ডিভিশনে প্রায় ১০,০০০–১২,০০০ ঘনমিটার বোল্ডার এবং ২,০০০–৩,০০০ ঘনমিটার বালি/কোয়ারি ডাস্ট মজুত রয়েছে। পাশাপাশি ৪০,০০০-এরও বেশি সিমেন্টের বস্তা রয়েছে। অন্যদিকে তিনসুকিয়া ডিভিশনে প্রায় ৪০০–৬০০ ঘনমিটার বোল্ডার, ১০০–১৫০ ঘনমিটার বালি/কোয়ারি ডাস্ট এবং ৭,০০০-এরও বেশি সিমেন্টের বস্তা রয়েছে। রঙিয়া ডিভিশন প্রায় ৬,০০০–৮,০০০ ঘনমিটার বোল্ডার এবং ১,০০০ ঘনমিটারেরও বেশি বালি/কোয়ারি ডাস্ট, সেই সাথে ৫,০০০-এরও বেশি সিমেন্টের বস্তা মজুত করেছে। আলিপুরদুয়ার ডিভিশনে ২০,০০০ ঘনমিটারের বেশি বোল্ডার এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণে অন্যান্য সামগ্রী মজুত রয়েছে। অন্যদিকে, কাটিহার ডিভিশনে প্রায় ৩,০০০–৫,০০০ ঘনমিটার বোল্ডার, ৮০০–১,২০০ ঘনমিটার বালি/কোয়ারি ডাস্ট এবং ২০,০০০-এরও বেশি সিমেন্টের বস্তা রয়েছে। সামগ্রিকভাবে, সমস্ত ডিভিশনে পর্যাপ্ত স্টক উপলব্ধ রয়েছে; এবং বর্ষা মৌসুমের জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে সামান্য ঘাটতিগুলি পূরণ করা হচ্ছে। এছাড়া, সমস্ত ডিভিশনে বিভিন্ন ধারণক্ষমতার উইঞ্চ ক্র্যাব, জ্যাক, টিরফর এবং ট্রাইপড উপলব্ধ রয়েছে, যা উদ্ধার বা পুনরুদ্ধার অভিযানের জন্য সর্বদা প্রস্তুত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে।
অতিরিক্তভাবে, উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে রিয়েল-টাইম ওয়েদার অ্যালার্ট ও পূর্বাভাস পাওয়ার লক্ষ্যে ইন্ডিয়া মেটিওরোলজিক্যাল ডিপার্টমেন্ট (আইএমডি)-এর সাথে সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এই সমন্বয় রেলওয়ের নিয়ন্ত্রণ কক্ষগুলিকে সহায়তা প্রদান করে—যা ২৪ x ৭ ঘণ্টাই সক্রিয় হয়ে থাকে—যাতে তারা ট্রেনের চলাচল এবং ফিল্ডে কর্মী মোতায়েন সংক্রান্ত বিষয়ে অগ্রিম সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে। যাত্রীদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে যে, অফিসিয়াল যোগাযোগ মাধ্যমগুলির মাধ্যমে হালনাগাদ তথ্য সম্পর্কে অবগত থাকে এবং রেল কর্তৃপক্ষের সাথে সহযোগিতা করে। এই ব্যাপক পদক্ষেপসমূহ কার্যকর থাকার ফলে, উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে বর্ষাকালে সুরক্ষা, পরিচালনগত দক্ষতা এবং যাত্রীদের সুবিধা সুনিশ্চিত করার জন্য পূর্ণাঙ্গভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস