
সন্দেশখালি, ২৯ এপ্রিল (হি. স.) : ভোট দিতে গিয়ে নিজেকে ‘মৃত’ হিসেবে তালিকায় দেখে হতবাক হয়ে পড়লেন এক জীবিত ভোটার। উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালির ১৭৬ নম্বর বুথে বুধবার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, ভোটার তালিকায় নাম থাকলেও পাশে ‘মৃত’ হিসেবে চিহ্নিত থাকায় বছর সত্তরের আল্পনা পাত্রকে ভোট দিতে দেওয়া হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সকালে নিজের ভোটার কার্ড নিয়ে যথানিয়মে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছেছিলেন আল্পনাদেবী। কিন্তু পোলিং অফিসাররা তাঁর নাম যাচাই করতে গিয়ে দেখেন, সরকারি নথিতে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে নিয়মের গেরোয় পড়ে তাঁকে ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা দেওয়া হয়। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই বুথ চত্বরে বাদানুবাদ শুরু হয় এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান হিঙ্গলগঞ্জের বিজেপি প্রার্থী রেখা পাত্র। তিনি বুথে উপস্থিত ভোটকর্মীদের সাথে কথা বলেন এবং এই গুরুতর ত্রুটির কারণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। একজন জীবিত মানুষ কীভাবে তালিকায় মৃত হিসেবে নথিভুক্ত হলেন এবং কার গাফিলতিতে এমনটা ঘটল, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানান তিনি।
বুথের বাইরে বসেই কান্নায় ভেঙে পড়েন আল্পনাদেবী। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, নথিতে মৃত হয়ে থাকলে আগামী দিনে তাঁর পেনশন এবং অন্যান্য সরকারি সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। নিজের অস্তিত্ব প্রমাণে তিনি অসহায় বোধ করেন।
ঘটনাটি ঘিরে উত্তেজনা বাড়লে স্থানীয় ব্লক প্রশাসনের নজরে আনা হয় বিষয়টি। বিডিও-কে এই অভিযোগ জানানো হয়েছে বলে খবর। তবে শেষ পর্যন্ত ওই বৃদ্ধা তাঁর ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছেন কি না, তা নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও স্পষ্ট কোনো তথ্য মেলেনি।
সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন সংশোধিত ভোটার তালিকা প্রকাশ করলেও, ভোটের দিন এ ধরনের বিভ্রাট তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / শুভদ্যুতি দত্ত