ত্রিপুরায় জল জীবন মিশন ২.০-এ কেন্দ্র-রাজ্যের মৌ স্বাক্ষর, পানীয়জল ব্যবস্থায় নতুন গতি
আগরতলা, ২৯ এপ্রিল (হি.স.) : ত্রিপুরায় নিরাপদ পানীয়জল পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে জল সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও সর্বজনীন করতে ‘জল জীবন মিশন (জে.জে.এম.) ২.০’-র অধীনে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (মৌ) স্বাক্ষর উপলক্ষ্যে বুধবার আগরতলায় এক গুরু
ভার্চুয়াল বৈঠক


আগরতলা, ২৯ এপ্রিল (হি.স.) : ত্রিপুরায় নিরাপদ পানীয়জল পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে জল সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও সর্বজনীন করতে ‘জল জীবন মিশন (জে.জে.এম.) ২.০’-র অধীনে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (মৌ) স্বাক্ষর উপলক্ষ্যে বুধবার আগরতলায় এক গুরুত্বপূর্ণ ভার্চুয়াল কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের ওয়ার রুম থেকে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে কেন্দ্র ও রাজ্যের শীর্ষ নেতৃত্ব ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রী সিআর পাটিল, কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী ভি সোমান্না এবং ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা। এছাড়াও কেন্দ্রীয় পানীয়জল ও স্যানিটেশন মন্ত্রকের সচিব অশোক কে মিনা সহ সংশ্লিষ্ট দফতরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা অংশ নেন।

কর্মসূচির সূচনায় অশোক কে মিনা জল জীবন মিশন ২.০-এর উদ্দেশ্য, লক্ষ্য ও কর্মপদ্ধতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিরাপদ পানীয়জল পৌঁছে দিতে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, আর এই উদ্যোগ সেই লক্ষ্য পূরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

এদিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সিআর পাটিল ত্রিপুরায় জল জীবন মিশনের অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, রাজ্যে পাইপলাইনের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি, বিশেষ করে প্রান্তিক এলাকায় পানীয়জল পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। ইতিমধ্যেই বড় অংশের কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি অবশিষ্ট কাজ দ্রুত শেষ করার ওপর জোর দেন এবং কাজের গতি আরও বাড়াতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশ প্রদান করেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, জল জীবন মিশনের সফল বাস্তবায়ন দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।

মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা কেন্দ্রীয় সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, জল জীবন মিশন ২.০-এর সময়সীমা ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ায় রাজ্যের উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির গতি আরও বাড়বে। তিনি এই মৌ স্বাক্ষরকে কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বিত প্রচেষ্টার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে ত্রিপুরার ৮৬.৩৪ শতাংশ পরিবারকে ফাংশনাল হাউসহোল্ড ট্যাপ কানেকশন (এফএইচটিসি)-এর আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে এবং ৬.৪৮ লক্ষেরও বেশি গ্রামীণ পরিবার ইতিমধ্যেই নিরাপদ পানীয়জলের সুবিধা পাচ্ছে। জল জীবন মিশন শুরুর আগে এই সংখ্যা ছিল অনেক কম, যা এখন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি আরও জানান, রাজ্যের ১৩১টি গ্রাম এবং ৪,৭১১টি বসতিতে শতভাগ এফএইচটিসি নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ৪,৩১৯টি বিদ্যালয় এবং ৮,৫৮৫টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে পাইপলাইনের মাধ্যমে জল সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। সুজলম ভারত কর্মসূচি, জল অর্পণ দিবস এবং জল সেবা মূল্যায়ন কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানের শেষে ভার্চুয়ালি মৌ স্বাক্ষরের নথিপত্র বিনিময় করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগ ত্রিপুরার জল সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও মজবুত করার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে এবং রাজ্যে উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande