বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও নগদ উদ্ধারের মাঝেই সম্পন্ন শেষ দফার নির্বাচন
কলকাতা, ২৯ এপ্রিল (হি. স.) : কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে বিক্ষিপ্ত অশান্তি ও উত্তেজনার মধ্যেই সম্পন্ন হলো ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় তথা অন্তিম দফার ভোটগ্রহণ। বুধবার কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের সাতটি জেলার মোট ১৪২
নির্বাচন কমিশন


কলকাতা, ২৯ এপ্রিল (হি. স.) : কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে বিক্ষিপ্ত অশান্তি ও উত্তেজনার মধ্যেই সম্পন্ন হলো ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় তথা অন্তিম দফার ভোটগ্রহণ। বুধবার কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের সাতটি জেলার মোট ১৪২টি আসনে ভোট দিয়েছেন সাধারণ মানুষ।

নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এদিন রাজ্যে রেকর্ড সংখ্যক ভোট পড়েছে। রাত পর্যন্ত পাওয়া সর্বশেষ হিসেব অনুযায়ী ভোটদানের গড় হার প্রায় ৯১.৪১ শতাংশ। তবে এই বিপুল জনসমর্থনের পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে চলেছে পুলিশি ধরপাকড় ও তল্লাশি অভিযান। নির্বাচন কমিশন বুধবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে যে, আদর্শ আচরণবিধি জারির পর থেকে এ পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র, বিস্ফোরক এবং নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৯৭টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, ৭১২টি কার্তুজ এবং ১০ হাজার ৪০১টি বোমা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এছাড়া প্রায় ২২২.৫৭ কেজি বিস্ফোরকও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের প্রায় সোয়া পাঁচ লক্ষ লাইসেন্সপ্রাপ্ত অস্ত্রের মধ্যে ১ লক্ষ ৭০ হাজারের বেশি অস্ত্র ইতিপূর্বেই জমা নেওয়া হয়েছে।

এদিন সকাল সাতটা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পর থেকেই বুথে বুথে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ে। জেলাওয়ারি পরিস্কংখ্যানে সবথেকে এগিয়ে রয়েছে পূর্ব বর্ধমান জেলা, যেখানে ভোট পড়েছে ৯৩.৩৯ শতাংশ। অন্যদিকে মহানগরের কলকাতা দক্ষিণে সবথেকে কম ৮৭.২৫ শতাংশ ভোট রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৯১.৪৫ শতাংশ, উত্তর ২৪ পরগনায় ৯১.৩৯ শতাংশ, হুগলিতে ৯১.৪১ শতাংশ এবং নদিয়ায় ৯১.৩৫ শতাংশ ভোট পড়েছে। এই বিপুল গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সমান্তরালে বিপুল পরিমাণ কালো টাকা ও মাদক উদ্ধারের খবরও দিয়েছে কমিশন। ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৮ এপ্রিল রাত পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৩০ কোটি ৬৯ লক্ষ টাকা নগদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এর বাইরে ১৩৪ কোটি টাকার বেশি মূল্যের মদ এবং প্রায় ১২০ কোটি টাকার মাদক দ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত ৫৩৯ কোটি ৭২ লক্ষ টাকারও বেশি মূল্যের সামগ্রী ও নগদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

এবারের নির্বাচনের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু ছিল ভবানীপুর আসন, যেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর লড়াইকে কেন্দ্র করে রাজপথ রণক্ষেত্রের রূপ নেয়। কালীঘাটের বুথ পরিদর্শনে শুভেন্দু অধিকারীকে ঘিরে তৃণমূল সমর্থকদের স্লোগান এবং পাল্টা বিজেপি কর্মীদের জয় শ্রীরাম ধ্বনি পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে মৃদু লাঠিচার্জও করতে হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোট দিয়ে বেরিয়ে নির্বাচন কমিশন ও ভিনরাজ্যের পর্যবেক্ষকদের কড়া সমালোচনা করেন। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন আদর্শ আচরণবিধি পালনেও অত্যন্ত কঠোর ভূমিকা নিয়েছে। রাজ্যজুড়ে সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তি থেকে প্রায় ২৪ লক্ষ অবৈধ রাজনৈতিক পোস্টার ও ব্যানার সরানো হয়েছে। জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে সবথেকে বেশি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে পূর্ব বর্ধমানে, যেখানে ৩ লক্ষ ২০ হাজারের বেশি অভিযোগের ভিত্তিতে পদক্ষেপ করা হয়েছে।

নিরাপত্তার খাতিরে ২,৩২১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকলেও বিভিন্ন জায়গা থেকে অশান্তির খবর পাওয়া গেছে। নদিয়ার চাপড়ায় বিজেপি এজেন্টের মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তীতে বিজেপি প্রার্থীর গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে এবং ভাঙড়ে নওশাদ সিদ্দিকীকে ঘিরে তীব্র উত্তজনা তৈরি হয়েছে। হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরে ভোট দিতে এসে এক বৃদ্ধের মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। সন্দেশখালির আল্পনা পাত্রের মতো অনেক ভোটার তালিকায় মৃত চিহ্নিত হওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সব মিলিয়ে ১৪৪৮ জন প্রার্থীর ভাগ্য আজ ইভিএম বন্দি হলো। অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক অরিন্দম নিয়োগী জানিয়েছেন, কমিশন অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করতে বদ্ধপরিকর। আগামী ৪ মে নির্ধারিত হবে রাজ্যের প্রশাসনিক ক্ষমতা কার হাতে থাকবে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande