
আগরতলা, ২৯ এপ্রিল (হি.স.) : সিপাহীজলা জেলার বিশ্রামগঞ্জ থানাধীন রামদাস পাড়ায় জনৈক গৃহবধূর অস্বাভাবিক মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মৃতার নাম কুম্পুই দেববর্মা। গত শনিবার নিজ ঘর থেকে তাঁর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করা হলেও, চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার গভীর রাতে জিবিপি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় রহস্য ঘনীভূত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে রামদাস পাড়ার বাসিন্দা পেশায় অটোচালক মঙ্গল দেববর্মার সঙ্গে সামাজিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন কুম্পুই দেববর্মা। তাঁদের সংসারে দেড় বছরের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তেমন কোনও অশান্তি ছিল না এবং স্বাভাবিকভাবেই সংসার চলছিল।
ঘটনার দিন তথা শনিবার সকালে কুম্পুই দেববর্মা শারীরিক অসুস্থতার কথা স্বামীকে জানান। এরপর মঙ্গল দেববর্মা নিজেই রান্নাবান্না করে স্ত্রী ও সন্তানকে খাইয়ে অটো নিয়ে কাজে বেরিয়ে যান। দুপুরের দিকে হঠাৎই তাঁদের দেড় বছরের শিশু সন্তান ঘর থেকে বেরিয়ে বারান্দায় এসে কান্নাকাটি শুরু করলে বিষয়টি নজরে আসে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের। তখন পাশের ঘরে থাকা বড় ভাই ও পরিবারের লোকজন ছুটে এসে রান্নাঘরে কুম্পুই দেববর্মার ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান।
পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাঁকে নামিয়ে বিছানায় শুইয়ে দেন। সে সময় তাঁর শ্বাস-নিঃশ্বাস চলছিল বলে জানা যায়। এরপর তড়িঘড়ি করে তাঁকে বিশ্রামগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য আগরতলার জিবিপি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে কয়েকদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ার পর মঙ্গলবার গভীর রাতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
বুধবার ময়নাতদন্তের পর মৃতদেহ পরিবারের হাতে তুলে দেয় জিবিপি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে বিশ্রামগঞ্জ থানার পুলিশ একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে।
পরিবারের দাবি, কোনও পারিবারিক কলহ ছিল না। তবে হঠাৎ করে স্বামী ও ছোট সন্তানকে রেখে কেন কুম্পুই দেববর্মা এমন চরম সিদ্ধান্ত নিলেন, তা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে নানা প্রশ্ন ও গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। পুলিশ সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চালাচ্ছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ