
আগরতলা, ২৯ এপ্রিল (হি.স.) : রাজ্য জুড়ে সাম্প্রতিক ঝড়, বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় সৃষ্ট ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির প্রেক্ষিতে উচ্চ পর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক করলেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা। বুধবার মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে ত্রিপুরা ইনস্টিটিউশন ফর ট্রান্সফর্মেশন (টিআইএফটি)-এর কনফারেন্স হলে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্য সচিব জেকে সিনহা, পুলিশ মহানির্দেশক অনুরাগ ধ্যানকর, বিভিন্ন জেলার জেলাশাসক, মহকুমা শাসক এবং একাধিক দফতরের সচিবরা। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা এই বৈঠকে রাজ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত দফায় দফায় ঝড়ের তাণ্ডবে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বহু জায়গায় গাছ উপড়ে পড়ায় সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে, কোথাও কোথাও জল জমে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। পাশাপাশি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র, স্কুল ভবন, বিদ্যুৎ পরিষেবা ও জলসম্পদ ব্যবস্থায়ও প্রভাব পড়েছে।
বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী প্রতিটি জেলার পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ নেন। বিশেষ করে কোথাও রাস্তাঘাট অবরুদ্ধ রয়েছে কি না, বিদ্যুৎ ও পানীয় জলের পরিষেবা কতটা স্বাভাবিক হয়েছে, বিভিন্ন বাঁধের অবস্থা কেমন—এই সব বিষয় গুরুত্ব সহকারে পর্যালোচনা করা হয়।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত লংতরাইভ্যালি এলাকায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। আহতদের সঠিক সংখ্যা এখনও নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তিনি বলেন, “পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন, মহকুমা প্রশাসন এবং বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকরা একযোগে কাজ করছেন। ইতিমধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ ক্ষয়ক্ষতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।”
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হচ্ছে। দ্রুত স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
এছাড়াও তিনি সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সচেতনতা এবং পূর্ব সতর্কতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের পাশাপাশি প্রশাসনকেও সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ