
হুগলি, ৩ এপ্রিল (হি.স.): পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আবহে সপ্তগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে এক নজিরবিহীন মানবিক ও রাজনৈতিক সংঘাতের চিত্র সামনে এল। শুক্রবার কোমায় আচ্ছন্ন তৃণমূল কংগ্রেসের পঞ্চায়েত সদস্য অপর্ণা পাত্রের বাড়িতে গিয়ে তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করলেন সপ্তগ্রামের বিজেপি প্রার্থী স্বরাজ ঘোষ। চুঁচুড়া বিধানসভার সুগন্ধা পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য অপর্ণা দেবী দীর্ঘ দেড় বছর ধরে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় কোমায় রয়েছেন। বর্তমানে সপ্তগ্রামের মহানাদ গ্রামে বাবার বাড়িতেই তাঁর চিকিৎসা চলছে।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালের ৬ জানুয়ারি চুঁচুড়ার একটি নার্সিংহোমে সন্তান প্রসবের সময় অপর্ণা দেবী কোমায় চলে যান। অপর্ণার বাবা রবিন মাঝি অভিযোগ করেছেন যে, সরকারি ‘স্বাস্থ্য সাথী’ কার্ড থাকা সত্ত্বেও তাঁর মেয়ে সঠিক চিকিৎসা পরিষেবা পাচ্ছেন না। তিনি আরও দাবি করেন, চুঁচুড়ার বিধায়ক অসিত মজুমদারের কাছে সাহায্যের আবেদন জানাতে গেলে তাঁকে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। মেয়ের চিকিৎসার খরচ জোগাতে গিয়ে রবিনবাবু নিজের গাড়ি এবং জমিও বিক্রি করে দিয়েছেন। বর্তমানে চরম আর্থিক অনটনের কারণে ওষুধের খরচ চালানোও দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাড়িতেই হাসপাতালের মতো শয্যা ও পরিকাঠামো তৈরি করে তাঁর চিকিৎসা চলছে।
এদিন বিজেপি প্রার্থী স্বরাজ ঘোষ দলীয় সমর্থকদের নিয়ে অপর্ণা দেবীর বাড়িতে পৌঁছন এবং অসহায় পরিবারটির পাশে থাকার আশ্বাস দেন। তিনি জানান, রাজনীতি বা দল বড় কথা নয়, এই পরিস্থিতিতে আর্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই তাঁর প্রধান কর্তব্য। তৃণমূলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, নিজের দলের একজন সক্রিয় সদস্যের পাশে না দাঁড়ানো বর্তমান শাসকদলের চরম ব্যর্থতা। রাজ্যের মানুষ এই অমনবিক পরিস্থিতি লক্ষ্য করছেন এবং আগামী নির্বাচনে পরিবর্তন নিশ্চিত বলে তিনি দাবি করেন।
পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বিধায়ক অসিত মজুমদার জানান, অপর্ণা পাত্রের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং তৃণমূল কংগ্রেস ওই পরিবারের জন্য সাধ্যমতো কাজ করেছে। তাঁর দাবি, অপর্ণার পরিবার তা ভালোভাবেই জানে। বিজেপি প্রার্থী সেখানে ভোটপ্রচারে যেতেই পারেন, তাতে দোষের কিছু নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন। তবে ভোটের মুখে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সপ্তগ্রাম ও চুঁচুড়া এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে উঠেছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি