
গুয়াহাটি, ৩ এপ্রিল (হি.স.) : ২০২৫–২৬ অৰ্থবৰ্ষে উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের অধীন রেলওয়ে সুরক্ষা বাহিনী (আরপিএফ) যাত্রী নিরাপত্তা, সুরক্ষা এবং জনসেবার প্রতি এক সুদৃঢ় ও ধারাবাহিক অঙ্গীকার প্রদর্শন করেছে। শক্তিশালী নজরদারি, তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ এবং সক্রিয় বাস্তবায়ন কৌশলের মাধ্যমে আরপিএফ রেল চত্বর জুড়ে সুরক্ষা ব্যবস্থাকে উল্লেখযোগ্যভাবে সুদৃঢ় করেছে এবং তাদের আওতাধীন এলাকায় যাত্রীদের জন্য অধিকতর নিরাপদ ভ্রমণ পরিবেশ নিশ্চিত করেছে।
আজ শুক্রবার এক প্রেস বার্তায় এ তথ্য দিয়ে উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জল কিশোর শর্মা জানান, সমগ্র বছর জুড়ে উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের অধীন রেলওয়ে সুরক্ষা বাহিনী চুরি, দালালি এবং অন্যান্য অবৈধ কাজকর্মের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে। যার ফলে একাধিকবার বহু ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ অবৈধ টিকিট বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। রেলওয়ের সম্পত্তি সুরক্ষায় পাথর নিক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং অবৈধ দখল উচ্ছেদ করেছে।
আইন প্রয়োগের পাশাপাশি আরপিএফ-এর মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের উদ্ধার এবং নারী ও শিশু সহ দুর্দশাগ্রস্ত ব্যক্তিদের সহায়তার মাধ্যমে তাদের মানবিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। অবৈধ পণ্য ও মাদকদ্রব্যের উল্লেখযোগ্য উদ্ধারের সতর্কতার বিষয়টি আরও তুলে ধরেছে, যা যাত্রী নিরাপত্তা, সুরক্ষা এবং রেলওয়ে পরিচালনার অখণ্ডতার প্রতি তাদের অঙ্গীকারকে সুদৃঢ় করে।
তিনি জানান, যাত্রীদের সুরক্ষা মজবুত করার লক্ষ্যে প্রযুক্তির সদ্ব্যবহারের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের রেলওয়ে সুরক্ষা বাহিনী সিইআইআর পোর্টালের মাধ্যমে চুরি হওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধারের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি লাভ করেছে। এই সময়ের মধ্যে মোট ২,৩৫৫টি মোবাইল ফোন ব্লক করা হয়েছে, ১,২৬৫টি ডিভাইসের অবস্থান সফলভাবে শনাক্ত করা হয়েছে এবং ২৯১টি ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৬৪টি ফোন প্রকৃত মালিকদের কাছে ফেরত দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে যাত্রীদের অভিযোগ কমানো এবং হারানো বা চুরি যাওয়া সম্পদ দ্রুত উদ্ধারে রেলওয়ে সুরক্ষা বাহিনী-র ডিজিটাল সরঞ্জামগুলোর কার্যকর ব্যবহারকে তুলে ধরেছে।
এ বছরের মধ্যে রেলওয়ে সুরক্ষা বাহিনী যাত্রীদের সামগ্রী চুরির ২১৯টি মামলা নথিভুক্ত করেছে। যার ফলে ২৮৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অবৈধ কাজকর্মের বিরুদ্ধে চলমান কঠোর অভিযানে দালালদের বিরুদ্ধে ১২০টি মামলা শনাক্ত করা হয়েছে। যার ফলে ১২৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই অভিযানগুলোয় মোট ৭৫৭টি টিকিট বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ২৩ লক্ষ টাকার বেশি।
রেলওয়ে সুরক্ষা বাহিনী পাথর নিক্ষেপের ১৫৪টি ঘটনার বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে জনসুরক্ষা সংক্রান্ত উদ্বেগগুলোও হ্রাসক রেছে। এ সব ঘটনায় ১১৬ জনকে আটক করা হয়েছে। রেলওয়ের সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ এবং অবৈধ দখল রোধের প্রচেষ্টায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে।
পূর্ববর্তী অর্থবছরে যেখানে ৪৩৭টি অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হয়েছিল, সেখানে ২০২৫–২৬-এ ৬৯৯টি অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হয়েছে।
রেলওয়ে সুরক্ষা বাহিনী মানবীয় পদক্ষেপের অংশ হিসেবে পাচারচক্র থেকে ৮৯ জনকে উদ্ধার করেছে, যা ২০২৪-২৫ সালের ১০ জনের তুলনায় একটি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। এছাড়া, এ বছরে ছেলে, মেয়ে এবং দুর্দশাগ্রস্ত মহিলা সহ (পাচার-সংক্রান্ত ঘটনা ছাড়া) মোট ১,১২৫ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে, যা পূর্ববর্তী বছরের ৯৫২ জনের তুলনায় অধিক। এই সময়ের মধ্যে রেলওয়ে সুরক্ষা বাহিনী উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে, তারা ১.২৯ কোটি টাকা মূল্যের সামগ্রী এবং ৫৫.২৯ কোটি টাকা মূল্যের মাদক দ্রব্য বাজেয়াপ্ত করেছে, যা অবৈধ কার্যকলাপের বিরুদ্ধে তাদের সতর্কতার প্রমাণ।
এই সাফল্য উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের অধীনস্থ রেলওয়ে সুরক্ষা বাহিনীর সক্রিয় দৃষ্টিভঙ্গি এবং বর্ধিত পরিচালনগত দক্ষতার ওপর আলোকপাত করে, যা সমগ্র অঞ্চলজুড়ে নিরাপদ রেল চলাচল ও যাত্রীদের সুরক্ষা বৃদ্ধিতে অবদান রাখছে, দাবি করেছেন উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জল কিশোর শর্মা।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস