
গোসাবা, ৫ এপ্রিল (হি. স.): রবিবার গোসাবার তৃণমূল প্রার্থী সুব্রত মণ্ডলের সমর্থনে নির্বাচনী প্রচারে গোসাবার কাছারি ময়দানে আসেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন সভায় মানুষের উপস্থিতি দেখে খুশি হন তিনি। রবিবার ছুটির দিনের পাশাপাশি খারাপ আবহাওয়া উপেক্ষা করে হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত হওয়ায় তিনি বলেন, “আজকেই মনে হচ্ছে ফল ঘোষনা হয়ে গেছে। ছুটির দিন ও খারাপ আবহাওয়া উপেক্ষা করে এত মানুষ নদী-নালা পেড়িয়ে এসেছেন, এতে আমি অভিভুত। মানুষের এই ভালবাসার প্রতিদান হিসেবে ডায়মন্ড হারবারের মত উন্নয়ন গোসাবাতেও করবো নিজের দায়িত্বে।”
এদিন মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে একের পর এক বিজেপিকে যেমন আক্রমন করেন অভিষেক, তেমনি এলাকার মানুষের জন্য উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিও দেন। কংক্রিটের নদীবাঁধ থেকে শুরু করে সেতুর মাধ্যমে একাধিক দ্বীপকে জুড়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। অভিষেক বলেন, “ আমতলি গ্রাম পঞ্চায়েতের পুঁইজালি গ্রামে রায়মঙ্গল নদীর প্রায় ৪০০ মিটার বাঁধ বিপদজনক, তেমনি রাঙাবেলিয়া গ্রামপঞ্চায়েতের পাখিরালায় এলাকার পাখিরালাতে গোমর নদীর বাঁধ ও জরুরী ভিত্তিতে কংক্রিটের তৈরি করা হবে।”
গদখালি গোসাবা সেতুর কাজ রাজ্য সরকার ২০১৮ সালে শুরু করেছিল। কিন্তু বিজেপির উস্কানিতে সেই কাজের বিরুদ্ধে পরিবেশ আদালতে মামলা করে আইনি জটিলতা তৈরি করা হয়। আর তাই সেই কাজ বন্ধ হয়ে গিয়েছে বলে জানান অভিষেক। তবে এই সেতু সহ বগুলাখালি শম্ভুনগরের সংযুক্তি সহ মোট তিনটি সেতু তৈরির প্রতিশ্রুতি দেন অভিষেক।”
বিজেপি প্রার্থীকে কটাক্ষ করে অভিষেক বলেন, “ বিজেপি প্রার্থী এখানে বহিরাগত। তিনি এলাকার রাস্তাঘাট, খালবিল চেনেন না। পাড়া গ্রাম চেনেন না। মানুষের পাশে কোনদিন দাঁড়ায় নি। অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে খুঁজে পাওয়া যায় না। নির্বাচনের আগে পড়ে এঁদেরকে গোসাবায় খুঁজে পাওয়া যায়নি, যাবে না।” অভিষেক বিজেপি প্রার্থীদের কটাক্ষ করে বলেন, “ ভোটে দাঁড়িয়েই এঁরা চুল দাঁড়ি কাটা থেকে শুরু করে বাড়ি গিয়ে লুচি পর্যন্ত ভেজে দিচ্ছেন। ফলে আপনারা এই একমাস এঁদেরকে দিয়ে এসব কাজ করিয়ে নিতে পারেন।” অভিষেকের এই বক্তব্যের পাল্টা হিসেবে বিজেপি প্রার্থী বিকর্ণ নস্কর বলেন, “ আসলে উনি তো কর্পোরেট সংস্থার তৈরি স্ক্রিপ্ট দেখে মঞ্চে বক্তব্য দিয়েছেন, আসলে উনিই বাস্তবটা জানেন না। আমি সুন্দরবনের ছেলে, সুন্দরবনের মাটিতেই জন্মেছি, বড় হয়েছি। পাশের বিধানসভা বাসন্তী থেকে প্রায় দিনই গোসাবায় যাতায়াত করি। ঠিকমত হোমওয়ার্ক না করে এসে ভুলভাল বকেছেন।”
প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি বিগত দিনে গোসাবায় স্বাস্থ্য থেকে শুরু করে আবাস যোজনার ঘর, রাস্তাঘাটের উন্নয়নের খতিয়ান এদিন জনগণের সামনে তুলে ধরেন অভিষেক। আর কেন্দ্রে বিজেপি সরকার আসার পর থেকে রান্নার গ্যাস সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বেড়েই চলেছে বলে দাবি করেন তিনি।
এদিন সুব্রতর সমর্থনে নির্বাচনী জনসভা হলেও সেই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন না অনিমেষ মণ্ডল, তাপস মণ্ডলের মত সুব্রত বিরোধী অনেক ব্লক ও অঞ্চল তৃণমূল নেতৃত্ব ও তাঁদের অনুগামীরা। তাঁদের সম্পর্কে কড়া বার্তা এদিন মঞ্চ থেকেই দেন অভিষেক। তিনি বলেন, “ সবার উপর আমার নজর আছে। কেউ কেউ তৃণমূলকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। আমি তাঁদেরকে চিহ্নিত করেছি। আমি জানি কারা করছে, কাদের থেকে টাকা নিয়ে করছে। রাতের অন্ধকারে কাদের সঙ্গে মিটিং করছে। আসলে যাদের সঙ্গে মিটিং করছে তাঁরাই আমাকে বলে দিচ্ছে। যারা ভাবছে ষড়যন্ত্র করে তৃণমূলের ক্ষতি করবে, তাঁরা ভুল ভাবছো, আগামী ৪ তারিখ বিকেলে দেখা হবে বন্ধু। তারপর বাকি জীবন কিভাবে কাটবে?” এভাবে বিক্ষুব্ধ তৃণমূল কর্মীদের এদিন মঞ্চ থেকেই হুমকি দেন অভিষেক।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / পার্সতি সাহা