
তেলিয়ামুড়া (ত্রিপুরা), ৭ এপ্রিল (হি.স.): খোয়াই জেলার তেলিয়ামুড়া থানাধীন কালিটিলা এলাকায় সোমবার গভীর রাতে মহিলা ও পুরুষকে আটক করে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়ার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাকে ঘিরে এলাকাজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে এবং শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কালিটিলা এলাকার বাসিন্দা শ্যামল সরকারের বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিলেন তুইসিন্দ্রাই এলাকার জনৈকা মহিলা। প্রায় এক মাস আগে মহিলার স্বামীর মৃত্যু হয়। এর পর থেকেই তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় ছিলেন বলে জানা গেছে। অভিযোগ, এই সময়ের মধ্যেই একই এলাকার বাসিন্দা রোমেন মালাকারের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
সোমবার রাত আনুমানিক ১০টা নাগাদ রোমেন মালাকার ওই মহিলার বাড়িতে আসেন। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় কিছু বাসিন্দা সন্দেহের বশে বাড়ির সামনে জড়ো হন এবং দরজা খোলার জন্য ডাকাডাকি শুরু করেন। পরে দরজা খোলা হলে দু’জনকে একই ঘরে দেখতে পেয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
অভিযোগ, এর পরই উত্তেজিত জনতা মহিলা ও পুরুষকে আটক করে এবং সামাজিক রীতির কথা বলে জোরপূর্বক তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন করায়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন প্রবীণ ব্যক্তি এই সিদ্ধান্তে সম্মতি দেন বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে রোমেন মালাকারের মা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছেন এবং পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। তবে ততক্ষণে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়ে যায় বলে জানা গেছে। এদিকে, সংশ্লিষ্ট মহিলা ও পুরুষের মধ্যে দূর সম্পর্কের আত্মীয়তার বিষয়টিও সামনে এসেছে, যা ঘটনাটিকে আরও বিতর্কিত করে তুলেছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একাংশের মতে, এটি সামাজিক রীতি রক্ষার উদ্যোগ হলেও অন্য অংশের মানুষ একে ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ এবং আইনবিরোধী কাজ বলে দাবি করেছেন।
ঘটনার বিষয়ে এখনও পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপের দাবি উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ