বুধবার ভারতীয় ফুটবলের চিনের প্রাচীরের প্রয়ান দিবস
কলকাতা, ৮ এপ্রিল (হি.স.) : বাঙালি ফুটবলার গোষ্ঠ পাল একজন বিখ্যাত ফুটবল খেলোয়াড় ছিলেন। রক্ষণে খেলার জন্য তিনি খ্যাতিলাভ করেছিলেন।সেই জন্য দৈনিক ইংলিশম্যান তাকে চিনের প্রাচীর উপাধিতে ভূষিত করেছিল। গোষ্ঠ পাল তৎকালীন বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি মাদারীপুর মহ
আজ ভারতীয় ফুটবলের চিনের প্রাচীরের প্রয়ান দিবস


কলকাতা, ৮ এপ্রিল (হি.স.) : বাঙালি ফুটবলার গোষ্ঠ পাল একজন বিখ্যাত ফুটবল খেলোয়াড় ছিলেন। রক্ষণে খেলার জন্য তিনি খ্যাতিলাভ করেছিলেন।সেই জন্য দৈনিক ইংলিশম্যান তাকে চিনের প্রাচীর উপাধিতে ভূষিত করেছিল।

গোষ্ঠ পাল তৎকালীন বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি মাদারীপুর মহকুমা বর্তমান নড়িয়ার ভোজেস্বর গ্রামে ১৮৯৬ সালের ২০ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন।

গোষ্ঠ পাল ছোটবেলা থেকেই ফুটবল খেলা শুরু করেছিলেন। ১৯০৭ সালে মাত্র ১১ বছর বয়েসে তিনি কলকাতার কুমারটুলি ক্লাবে যোগ দেন। তারপর মোহনবাগানের খেলোয়াড় রাজেন সেনের হাত ধরে ১৯১২ সালে ঐতিহ্যবাহী মোহনবাগান ক্লাবে যোগ দেন। এর আগের বছরই মোহনবাগান বিদেশীদের হারিয়ে আইএফএ শিল্ড জয় করেছিল।

১৯১৩ সালে তিনি মোহনবাগানের হয়ে প্রথম খেলেন। এরপর ২৩ বছর ধরে মোহনবাগানের হয়ে তিনি খেলেছেন। ১৯২০ সালে ইস্টবেঙ্গল ক্লাব প্রথম যে দল গড়ে সেই দলে ছিলেন কিংবদন্তি ফুটবলার গোষ্ঠ পাল। ১৯২০ সালে ইস্টবেঙ্গল একটাই টুর্নামেন্ট হারকিউলিস কাপে খেলতে মোহনবাগান থেকে তাকে হায়ারে নিয়েছিল এবং চ্যাম্পিয়নও হয় লাল-হলুদ। ১৯২১ থেকে টানা ৫ বছর তিনি মোহনবাগানের অধিনায়ক ছিলেন৷ মোহনবাগানের হয়ে খেলেছেন ১৯১২-১৯৩৬ সাল পর্যন্ত। ৬১৭টি ম্যাচ খেলে গোল করেছেন ৪৩টি। আর ভারতীয় দলে খেলেছিলেন ১৯২৪-১৯৩৬। ৩৭টি ম্যাচ খেলে গোল করেছেন ৫টি। ১৯২৪ সালে তিনি ভারতীয় দলেরও অধিনায়ক ছিলেন। সেই সময় বুটপরা ইউরোপিয়ান খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে খালি পায়ে খেলে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। তিনি শুধু ফুটবল নয়, হকি, ক্রিকেট ও টেনিস খেলাতেও দক্ষ ছিলেন। ১৯৩৫ সালে তিনি ফুটবল থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

১৯৬২ সালে ভারত সরকার তাকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করে। তিনি ছিলেন প্রথম ফুটবল খেলোয়াড় যিনি পদ্মশ্রী উপাধি লাভ করেছিলেন।

তাকে স্মরনীয় করে রাখার জন্য ১৯৮৪ সালে কলকাতা ময়দানে, যেটি গোষ্ঠ পাল স্মরনী,সেখানে তার ভাস্কর্য স্থাপিত করা হয়। খালি পায়ে ফুটবল খেলার ঔদ্ধত্যটাই বোঝানো হয়েছে এই ভাস্কর্যে। তার স্মরণে ডাকটিকিটও প্রকাশিত হয়েছে।

মোহনবাগান ক্লাব ২০০৪ সালে তাকে মরনোত্তর মোহনবাগান রত্ন উপাধিতে ভূষিত করে। মোহনবাগান ক্লাবের ভিতরে তার নামে একটি সংগ্রহশালাও আছে। ৮ এপ্রিল ১৯৭৬, ভারতীয় ফুটবলের এই কিংবদন্তি ফুটবলার কলকাতায় মৃত্যু বরণ করেন।

হিন্দুস্থান সমাচার / শান্তি রায়চৌধুরি




 

 rajesh pande