
কলকাতা, ১ মে (হি. স.): নির্বাচন মানেই তপ্ত রাজনীতি আর পক্ষ-বিপক্ষের বাকযুদ্ধ। ভোট পরবর্তী আবহে উত্তেজনা প্রশমনে নির্বাচন কমিশন যখন তৎপর, ঠিক তখনই নতুন মাত্রা যোগ করল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক স্ট্রংরুম পরিদর্শন। বৃহস্পতিবারের সেই ঘটনার রেশ ধরে শুক্রবার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে সশরীরে হাজির হলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূল সুপ্রিমোর বিরুদ্ধে বিধিভঙ্গের অভিযোগ তুলে ফের একবার সরব হয়েছেন তিনি।
বিতর্কের মূল কেন্দ্রবিন্দু বৃহস্পতিবারের ঘটনাক্রম। ওই দিন প্রথম দিকে মুখ্যমন্ত্রী একটি ভিডিও বার্তা দিলেও রাতের দিকে তিনি আচমকা পৌঁছে যান শাখাওয়াত মেমোরিয়াল গভর্নমেন্ট গার্লস হাই স্কুলে তৈরি স্ট্রংরুমে। সেখানে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করার পাশাপাশি ইভিএম কারচুপির গুরুতর অভিযোগ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং। স্ট্রংরুমের ভেতরে তাঁর এভাবে বসে পড়া এবং সরাসরি কারচুপির অভিযোগ তোলা নিয়েই রাজনৈতিক মহলে বিতর্কের ঝড় ওঠে।
মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করে শুক্রবার বিকেলে পাঁচটা নাগাদ সদলবলে নির্বাচন কমিশনের দফতরে পৌঁছান শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, একজন প্রার্থী বা মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এভাবে রাতে স্ট্রংরুমে প্রবেশ করা এবং সেখানে বসে থাকা নির্বাচনী বিধির পরিপন্থী। বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, এর মাধ্যমে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে এবং কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এই বিষয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র জমা দেন।
ভোটের ফল ঘোষণার ঠিক আগে মুখ্যমন্ত্রীর এই স্ট্রংরুম পরিদর্শন এবং শুভেন্দু অধিকারীর পাল্টা কমিশনে যাওয়া—উভয় ঘটনাকে কেন্দ্র করেই শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে চাপানউতোর তুঙ্গে পৌঁছেছে। ইভিএম কারচুপি নিয়ে মমতার অভিযোগ যেমন কমিশনের কাছে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে, তেমনি শুভেন্দুর নালিশ সেই বিতর্কে নতুন ইন্ধন জুগিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, উভয় পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
হিন্দুস্থান সমাচার / শুভদ্যুতি দত্ত