
শিমলা, ১ মে (হি.স.) : হিমাচল প্রদেশে ফের আবহাওয়ার বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। আগামী কয়েকদিনে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ভারী বৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি, দমকা হাওয়া এবং বজ্রপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। ৩ ও ৪ মে-কে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যার জেরে একাধিক জেলায় কমলা ও হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অকালবৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির আশঙ্কায় ইতিমধ্যেই চিন্তায় পড়েছেন কৃষক ও বাগানচাষিরা।
শুক্রবার আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ২ মে কিছু জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হতে পারে, তবে সেদিন কোনও বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়নি। কিন্তু তার পরই পশ্চিমী ঝঞ্ঝা সক্রিয় হওয়ায় আবহাওয়ার চরিত্র দ্রুত বদলাবে। ৩ মে লাহৌল-স্পিতি ও কিন্নৌর বাদে প্রায় সব জেলাতেই সতর্কতা জারি থাকবে। চম্বা, কাংড়া, কুল্লু, মান্ডি ও শিমলায় কমলা সতর্কতা দেওয়া হয়েছে, যেখানে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া, ভারী বৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি ও বজ্রপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যান্য জেলাগুলিতে হলুদ সতর্কতা জারি থাকবে। ৪ মে-ও একই ধরনের পরিস্থিতি বজায় থাকার আশঙ্কা রয়েছে, আর ৫ ও ৬ মে-তেও একাধিক জেলায় হলুদ সতর্কতা কার্যকর থাকবে।
গত ২৪ ঘণ্টাতেও রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির ঘটনা সামনে এসেছে। সবচেয়ে বেশি ৩৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে জুব্বারহাট্টিতে। এছাড়া শিমলায় ১৫.৮ মিমি, কসৌলিতে ১১ মিমি, জট্টন ব্যারেজে ৯.৪ মিমি এবং নাহানে ৯.২ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। শিমলা, জুব্বারহাট্টি ও কুফরি-সহ কয়েকটি জায়গায় শিলাবৃষ্টিও হয়েছে, যদিও কোথাও তুষারপাতের খবর মেলেনি।
তাপমাত্রার ক্ষেত্রেও স্বাভাবিকের নিচে অবস্থান করছে রাজ্যের গড় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা, ফলে অনেক জায়গাতেই এখনও শীতের অনুভূতি বজায় রয়েছে। তাবোতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে এসেছে ৩.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা সর্বনিম্ন। এছাড়া কল্পায় ৫.৮, মানালিতে ৮.১, শিমলায় ১২.০, সোলানে ১১.৭, পালমপুরে ১৫.০, কাংড়ায় ১৬.৭, মান্ডিতে ১৬.৩ এবং উনায় ১৮.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের ফলে শিমলা ও মানালিতে ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে, এমনকি সমতল এলাকাতেও গরমের প্রভাব কিছুটা কমেছে।
শুক্রবার আপাতত রাজ্যের অধিকাংশ জায়গায় আবহাওয়া পরিষ্কার থাকলেও নীচু এলাকায় রোদ ছিল। তবে এই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী নয় বলেই ইঙ্গিত দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। মে মাসের শুরুতেই ফের দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের এপ্রিল মাসেও হিমাচলে স্বাভাবিকের তুলনায় সামান্য বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। ফলে মে মাসেও বৃষ্টিপাতের ধারাবাহিকতা বজায় থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন গরম থেকে স্বস্তি মিলতে পারে, অন্যদিকে কৃষি ও ফলচাষে বড়সড় ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য