
কলকাতা, ১৫ মে (হি. স. ) : কালীঘাট থানার প্রাক্তন ওসি তথা কলকাতা পুলিশের ডিসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে গ্রেফতারের পর একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য সামনে আসছে বলে দাবি এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি)। তদন্তের কেন্দ্রে উঠে এল কলকাতা পুলিশের অন্তত ১২জন আধিকারিকের নাম।
কলকাতা পুলিশের অন্দরে এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। শান্তনু-ঘনিষ্ঠ প্রভাবশালী ব্যবসায়ী জয় এস কামদারের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগে এবার উঠে এসেছেন কয়েকজন ওসি ও সাব-ইনস্পেক্টর পদমর্যাদার আধিকারিকও। খুব শীঘ্রই তাঁদের ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।
তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে খবর, কলকাতা ও শহরতলির একাধিক বিবাদমান জমি লক্ষ্য করেই গড়ে উঠেছিল একটি সুসংগঠিত চক্র। সেই চক্রের সঙ্গে প্রশাসনের একাংশের প্রত্যক্ষ যোগাযোগ ছিল। অভিযোগ, প্রভাবশালী ব্যবসায়ী কামদারের ঘনিষ্ঠ মহল প্রথমে শহরের বিভিন্ন গোলমেলে জমি চিহ্নিত করত। এরপর সেই জমি দখলের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় পরিকল্পিত ভাবে ভুয়ো অভিযোগ দায়ের করা হতো।
ইডি সূত্রে দাবি, অভিযোগ দায়ের হওয়ার আগেই থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হতো। এতে সমন্বয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন শান্তনু সিনহা বিশ্বাস। তদন্তকারীদের অনুমান, তিনি নিজে ফোন করে সংশ্লিষ্ট থানার অফিসারদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিতেন এবং জয় এস কামদারের পক্ষকে সহযোগিতা করার জন্য চাপ সৃষ্টি করতেন।
শুধু অভিযোগ দায়ের নয়, তদন্তের গতিপ্রকৃতিও প্রভাবিত করার চেষ্টা চলত বলে অভিযোগ। জমির প্রকৃত মালিক বা দখলদারদের প্রশাসনিক চাপের মুখে ফেলে মামলার মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার কৌশল নেওয়া হতো বলেও মনে করছে তদন্তকারী সংস্থা। পুলিশের একাংশকে ব্যবহার করে জমি সংক্রান্ত মামলাগুলিকে বিশেষ দিকে পরিচালিত করার অভিযোগও উঠেছে।
ইডির এক আধিকারিকের কথায়, এটি শুধুমাত্র জমি দখলের ঘটনা নয়। প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে একটি সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়েছিল কি না, সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / মৌসুমী সেনগুপ্ত