
হাফলং (অসম), ১৫ মে : হাফলং উপ-ডাকঘরের দীর্ঘদিনের নানা সমস্যা ও পরিষেবা ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে পুনরায় গুয়াহাটিতে অবস্থিত চিফ পোস্টমাস্টার জেনারেলের কাছে স্মারকপত্র জমা দিয়েছেন ডিমা হাসাও জেলার বাসিন্দারা। একই সঙ্গে হাফলং সাব-পোস্ট অফিসকে পূর্ণাঙ্গ হেড পোস্ট অফিসে উন্নীত করার দাবিও জানানো হয়েছে। কাছাড় বিভাগের পোস্ট অফিস সুপারিনটেনডেন্ট দীপজ্যোতি গাঙ্গুলির হাফলং সফরকালে তাঁর হাতেই এই স্মারকপত্র তুলে দেওয়া হয়।
২০২২ সালের ৩ মার্চ দাখিল করা পূর্ববর্তী অভিযোগের পর ফের নতুন করে এই স্মারকপত্র জমা দেন গোলন দাউলাগুপু, শ্যামলকান্তি দে, গণেশ জয়শী-সহ বিভিন্ন সমাজের প্রতিনিধিরা। স্মারকপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে হাফলং সাব-পোস্ট অফিসে নানা সমস্যা চলতে থাকায় জেলার ডাক ও ডাক-ব্যাংকিং পরিষেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, পোস্ট অফিসে ‘সিটিজেনস চার্টার’ প্রদর্শিত থাকলেও নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে পরিষেবা প্রদান করতে কর্মকর্তারা নিয়মিতভাবে ব্যর্থ হচ্ছেন। হাফলংমুখী চিঠিপত্র ও পার্সেল এখনও শিলচর হেড পোস্ট অফিসের মাধ্যমে পাঠানো হওয়ায় অযথা বিলম্ব হচ্ছে। অথচ গুয়াহাটি ও হাফলংয়ের মধ্যে উন্নত সড়ক যোগাযোগ থাকা সত্ত্বেও এই সমস্যা কাটছে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাসিন্দারা।
স্মারকপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, পার্সেল, চিঠিপত্র ও স্পিড পোস্ট পৌঁছাতে অতিরিক্ত দেরি হচ্ছে। পাশাপাশি পাসবই, জমা ফর্মসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সামগ্রীর অভাবও নিয়মিত দেখা দিচ্ছে। ফলে জরুরি নথিপত্র সময়মতো বিভিন্ন অফিস ও প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে সাধারণ মানুষকে সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে।
এছাড়া সঞ্চয় আমানত, রেকারিং ডিপোজিট, ন্যাশনাল সেভিংস সার্টিফিকেট, কিষাণ বিকাশ পত্র ও আরপিএলআইয়ের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর অর্থ প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও শিলচর থেকে অনুমোদনের কারণে মাসের পর মাস বিলম্ব হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে কর্মী সংকটও পরিষেবাকে আরও দুর্বল করে তুলেছে।
এই পরিস্থিতিতে বাসিন্দারা অবিলম্বে হাফলং সাব-পোস্ট অফিসকে হেড পোস্ট অফিসে উন্নীত করা, স্থানীয় স্তরে সমস্ত প্রধান ডাক ও ডাক-ব্যাংকিং পরিষেবা চালু করা, গোটা ডিমা হাসাও জেলার জন্য হাফলং পোস্ট অফিসকে একক পরিষেবা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা এবং আধুনিক ডিজিটাল পরিষেবা চালুর দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ডাক, ব্যাংকিং, বিমা ও অর্থ স্থানান্তর পরিষেবাকে আরও নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী করার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
স্মারকপত্রে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিনের এই সমস্যার কারণে সাধারণ গ্রাহক, ছাত্রছাত্রী ও পেনশনভোগীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তাই দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য ডাক বিভাগের প্রতি আবেদন জানানো হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, পোস্ট অফিসের উন্নীতকরণ এবং ডিজিটাল পরিষেবা চালু হলে পরিষেবার বিলম্ব অনেকটাই কমবে এবং ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন ডিমা হাসাও জেলায় অত্যাবশ্যক আর্থিক পরিষেবা আরও সহজলভ্য হবে। সাংবাদিক ও সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও ডাক বিভাগকে সংস্কার ও কর্মী নিয়োগের নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে কাছাড় বিভাগের পোস্ট অফিস সুপারিনটেনডেন্ট দীপজ্যোতি গাঙ্গুলি জানিয়েছেন, হাফলং সাব-পোস্ট অফিসের বিদ্যমান সমস্যাগুলির সমাধান এবং গ্রাহক পরিষেবা উন্নত করতে গুরুত্ব সহকারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অবিলম্বে গ্রহণ করা হবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / স্নিগ্ধা দাস