
কুমারঘাট (ত্রিপুরা), ১৫ মে: শুক্রবার থেকে দেশে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। নতুন দরে প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম বেড়েছে ৩ টাকা ৩ পয়সা এবং ডিজেলের দাম বেড়েছে ২ টাকা ৯১ পয়সা। এর জেরে পরিবহণ খরচ বৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা করছেন সাধারণ মানুষ।
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে তেল সংকটের গুজবও ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রভাবে অনেক জায়গায় পেট্রোল পাম্পগুলিতে গ্রাহকদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। তবে ঊনকোটি জেলার কুমারঘাটে চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখানকার পেট্রোল পাম্পগুলিতে তেল সরবরাহ ও বিক্রি স্বাভাবিক রয়েছে এবং গ্রাহকদের অযথা ভিড়ও লক্ষ্য করা যায়নি।
কুমারঘাট পেট্রোলিয়াম এজেন্সির ম্যানেজার রাজন কান্তি ধর জানান, শুক্রবার সকাল থেকেই নতুন দরে পেট্রোল ও ডিজেল বিক্রি শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, “পেট্রোলের দাম লিটার প্রতি ৩ টাকা ৩ পয়সা এবং ডিজেলের দাম ২ টাকা ৯১ পয়সা বেড়েছে। তবে কুমারঘাটে তেল সংকটের কোনও আশঙ্কা নেই। প্রতিদিন নিয়মিতভাবে তেল সরবরাহ হচ্ছে এবং বিক্রিও স্বাভাবিক রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, বর্তমানে পাম্পে প্রায় ১৫ দিনের মতো পেট্রোল ও ডিজেলের মজুত রয়েছে। ফলে গ্রাহকদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। অন্যান্য এলাকার মতো কুমারঘাটে মূল্যবৃদ্ধির কারণে অতিরিক্ত বিক্রির প্রবণতাও দেখা যায়নি।
অন্যদিকে, জ্বালানির দাম বাড়ায় পরিবহণ ব্যয় বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ। কুমারঘাটের একাধিক গ্রাহক জানান, এখন থেকে প্রতিবার তেল কিনতে অতিরিক্ত টাকা গুনতে হবে। বিশেষ করে পণ্যবাহী যানবাহনের ক্ষেত্রে খরচ অনেকটাই বেড়ে যাবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দামে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, পরিবহণ খরচ বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে সবজি, চাল, ডাল, তেলসহ দৈনন্দিন ব্যবহার্য পণ্যের দাম ধীরে ধীরে বাড়তে পারে। এতে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের সংসার চালানো আরও কঠিন হয়ে উঠবে।
হঠাৎ করে পেট্রোল-ডিজেলের এই মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে চাপা ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। যদিও কুমারঘাটে আপাতত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় কিছুটা স্বস্তি মিলেছে, তবু মূল্যবৃদ্ধির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ