
ধর্মনগর (ত্রিপুরা), ১৫ মে (হি.স.) : উত্তর ত্রিপুরার ধর্মনগর থানার অন্তর্গত রাজনগর গ্রামের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে বৃহস্পতিবার রাতে একসঙ্গে পাঁচটি বাড়িতে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। চড়ক মেলার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে চোরের দল এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান পুলিশের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে রাজনগর এলাকায় চড়ক মেলা চলছিল। অধিকাংশ গ্রামবাসী মেলায় ব্যস্ত থাকায় বাড়িগুলি কার্যত ফাঁকা ছিল। এই সুযোগে চোরেরা একে একে অন্তত পাঁচটি বাড়িতে হানা দেয়।
রাত প্রায় সাড়ে সাতটা নাগাদ প্রথমে বিশ্বজিৎ সিংহের বাড়িতে চুরির ঘটনা ধরা পড়ে। এরপর দ্রুত খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রতিবেশীরা নিজেদের বাড়িতে ফিরে গিয়ে দেখেন, আরও কয়েকটি বাড়িতে চুরি হয়েছে।
শান্তি গোপাল নাথ জানান, খবর পেয়ে তিনি দ্রুত বাড়িতে ফিরে এসে দেখেন তাঁর বাড়ির বারান্দার গ্রিল ভাঙা এবং প্রধান দরজা খোলা অবস্থায় রয়েছে। বাড়ির সামনে রাখা দুটি মোটরসাইকেল অক্ষত থাকলেও ঘরের আলমারি তছনছ করা হয়। তাঁর দাবি, ঘর থেকে আনুমানিক চার লক্ষ টাকা মূল্যের সোনার ও রুপোর গয়না এবং দুটি মোবাইল ফোন চুরি হয়েছে।
এছাড়া তাঁর কাকার ঘর থেকেও একটি মোবাইল ফোন, কিছু নগদ অর্থ এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা।
মোহনবাঁশি নাথের বাড়ির দরজা ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়। রিংকু নাথের ঘরের দরজাও খোলা ছিল। পাশের বাড়ির অনিল নাথের বাড়ি থেকেও নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার চুরি হয়েছে।
অমূল্য ভৌমিকের বাড়িতেও চোরেরা ঢুকেছিল। তবে পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে ফিরে আসায় চোরেরা তড়িঘড়ি করে পিছনের জঙ্গল দিয়ে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ। ফলে ওই বাড়ি থেকে উল্লেখযোগ্য কিছু চুরি করতে পারেনি।
ঘটনার খবর ধর্মনগর থানায় জানানো হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই উত্তর জেলার এসডিপিও জয়ন্ত কর্মকার, ধর্মনগর থানার ওসি মিনা দেববর্মা এবং অন্যান্য পুলিশ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেন। পরে ফরেনসিক দল এবং ট্র্যাকার ডগ নিয়ে ঘটনাস্থল পরীক্ষা করা হয়। পুলিশ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে আশপাশের এলাকায় নজরদারি জোরদার করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং দ্রুত দুষ্কৃতীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
রাজনগর গ্রামের বাসিন্দাদের কথায়, এই এলাকায় এর আগে কখনও এমন সংঘবদ্ধ চুরির ঘটনা ঘটেনি। ফলে ঘটনার পর গোটা গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। রাতের নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ