শান্তিরবাজারে রেললাইনে মর্মান্তিক মৃত্যু, ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধার ঘিরে শোক ও চাঞ্চল্য
শান্তিরবাজার (ত্রিপুরা), ১৬ মে (হি.স.) : ভোরের নিস্তব্ধতা ভেঙে এক হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনায় স্তব্ধ হয়ে গেল দক্ষিণ ত্রিপুরার শান্তিরবাজার মহকুমা। শনিবার সকালে কালাপাড়া ও দুর্গরাইপাড়ার মাঝামাঝি রেললাইনে সাব্রুম-আগরতলাগামী ট্রেনের ধাক্কায় এক অজ্ঞাতপর
রেল লাইনে মৃতদেহ উদ্ধার


শান্তিরবাজার (ত্রিপুরা), ১৬ মে (হি.স.) : ভোরের নিস্তব্ধতা ভেঙে এক হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনায় স্তব্ধ হয়ে গেল দক্ষিণ ত্রিপুরার শান্তিরবাজার মহকুমা। শনিবার সকালে কালাপাড়া ও দুর্গরাইপাড়ার মাঝামাঝি রেললাইনে সাব্রুম-আগরতলাগামী ট্রেনের ধাক্কায় এক অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ঘটনায় গোটা এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল আনুমানিক ৬টা নাগাদ কয়েকজন বাসিন্দা রেললাইনের মাঝখানে জনৈক যুবকের ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। মাথা ও মুখ সম্পূর্ণ থেঁতলে যাওয়ায় প্রথমে তাঁকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এই দৃশ্য দেখে এলাকাজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় মনপাথর থানায়।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান মনপাথর থানার ওসি জয়ন্ত দাস। তিনি জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সাব্রুম থেকে আগরতলাগামী সকালের ট্রেনের ধাক্কাতেই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ নিহতের পরিচয় জানার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, যুবকটি সম্ভবত প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়েছিলেন। রেললাইন ধরে হাঁটার সময় অসাবধানতাবশত দ্রুতগতির ট্রেনের সামনে পড়ে যান। যদিও এটি দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

ঘটনার খবর পেয়ে শান্তিরবাজার দমকল কেন্দ্রের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহ পাঠানো হয় শান্তিরবাজার স্থিত দক্ষিণ জেলা হাসপাতালে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, কালাপাড়া ও দুর্গরাইপাড়ার মধ্যবর্তী এই রেললাইন অংশে এর আগেও ট্রেনের ধাক্কায় দু’জনের মৃত্যু হয়েছিল। ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। পরপর একাধিক মৃত্যুর ঘটনায় ফের প্রশ্ন উঠছে, রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা রয়েছে কি না।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে গভীর শোকের সঞ্চার হয়েছে। অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের করুণ পরিণতি অনেককেই আবেগাপ্লুত করে তোলে। পুলিশ একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে। নিহতের পরিচয় জানা গেলে তাঁর পরিবারের হাতে মৃতদেহ তুলে দেওয়া হবে।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande