ধর্মগুরুর ছদ্মবেশে প্রতারণা, অর্থপাচার মামলায় গ্রেফতার ‘ক্যাপ্টেন’ অশোক খারাত
মুম্বই, ২১ মে (হি.স.) : অর্থপাচার মামলায় স্বঘোষিত ধর্মগুরু অশোক কুমার একনাথ খারাত ওরফে ‘ক্যাপ্টেন’-কে গ্রেফতার করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। বৃহস্পতিবার মুম্বইয়ের বিশেষ পিএমএলএ আদালত ধৃতকে ২৬ মে পর্যন্ত ইডি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে। গত ১৯
ধর্মগুরুর ছদ্মবেশে প্রতারণা, অর্থপাচার মামলায় গ্রেফতার ‘ক্যাপ্টেন’ অশোক খারাত


মুম্বই, ২১ মে (হি.স.) : অর্থপাচার মামলায় স্বঘোষিত ধর্মগুরু অশোক কুমার একনাথ খারাত ওরফে ‘ক্যাপ্টেন’-কে গ্রেফতার করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। বৃহস্পতিবার মুম্বইয়ের বিশেষ পিএমএলএ আদালত ধৃতকে ২৬ মে পর্যন্ত ইডি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে। গত ১৯ মে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, মহারাষ্ট্রের নাসিক শহরের সরকারওয়াড়া থানায় দায়ের হওয়া এফআইআরের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়। অশোক খারাত ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, মহারাষ্ট্র মানব বলি ও কালাজাদু বিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। পরে শিরডি ও রাহাতা থানার একাধিক মামলাও তদন্তের আওতায় আনা হয়।

তদন্তে উঠে এসেছে, অশোক খারাত নিজেকে ভগবান শিবের অবতার বলে দাবি করতেন। অলৌকিক শক্তি ও দৈব জ্ঞানের কথা বলে সাধারণ মানুষের মধ্যে মৃত্যু, কালাজাদু ও অমঙ্গল নিয়ে ভয় তৈরি করতেন। অভিযোগ, সেই ভয় দেখিয়েই ধর্মীয় আচার, আধ্যাত্মিক চিকিৎসা ও ‘অবতার পূজা’র নামে বিপুল টাকা ও সম্পত্তি হাতিয়ে নিতেন তিনি।

ইডি জানিয়েছে, অন্তত একটি ঘটনায় প্রায় ৫.৬২ কোটি টাকা তোলাবাজির তথ্য মিলেছে। ওই অর্থ মার্সিডিজ গাড়ি কেনা, বিদেশ সফর, আমেরিকায় চিকিৎসা এবং ফার্মহাউস তৈরিতে খরচ করা হয়েছিল। সবই অশোক খারাতের নির্দেশে হয়েছে বলে তদন্তকারীদের দাবি।

তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, সমবায় সংস্থা, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি এবং অন্যদের নামে খোলা অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে গোপন করা হত। একাধিক বেনামি অ্যাকাউন্ট ও ফিক্সড ডিপোজিট স্কিম চালানো হত, যেখানে বিপুল নগদ জমা করে পরে তা তুলে নেওয়া হত।

ইডি গত ১৩ ও ১৪ এপ্রিল, ১৭ এপ্রিল, ২৩ এপ্রিল, ৫ মে এবং ১৮ মে অশোক খারাত ও তাঁর সহযোগীদের একাধিক বাড়ি, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, ব্যাঙ্ক লকার এবং গাড়িতে তল্লাশি চালায়। সেখান থেকে ১৩.৯২ কোটি টাকা নগদ, ৫,৫০০ মার্কিন ডলার, প্রায় ১.১২ কোটি টাকার সোনা-রুপোর গয়না উদ্ধার হয়েছে। পাশাপাশি ২.২৫ কোটি টাকার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে এবং একটি বিলাসবহুল মার্সিডিজ গাড়িও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

তল্লাশিতে একাধিক ডিজিটাল ডিভাইস, সম্পত্তি সংক্রান্ত নথি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও উদ্ধার হয়েছে। ঘটনায় তদন্ত চলছে।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande