
নয়াদিল্লি, ২১ মে (হি.স.) : দেশের সমস্ত পেট্রল পাম্পে পর্যাপ্ত পরিমাণে পেট্রোল ও ডিজেলের মজুত রয়েছে বলে বৃহস্পতিবার দাবি করল কেন্দ্র সরকার। পাশাপাশি, গৃহস্থালির রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারের কালোবাজারি রুখতে ডেলিভারি অথেনটিকেশন কোড (ডিএসি) ব্যবস্থার মাধ্যমে এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ এখনও প্রায় ৯৬ শতাংশে পৌঁছেছে বলেও জানিয়েছে কেন্দ্র।
পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক আন্তঃমন্ত্রক সাংবাদিক বৈঠকে পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের যুগ্মসচিব সুজাতা শর্মা বলেন, “দেশে অপরিশোধিত তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, পেট্রল ও ডিজেলের পর্যাপ্ত জোগান রয়েছে। দেশের চাহিদা মেটাতে রিফাইনারিগুলি পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করছে।” তিনি জানান, এলপিজি উৎপাদনও বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে দেশে দৈনিক প্রায় ৪৬ থেকে ৪৭ হাজার টন এলপিজি উৎপাদিত হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, গৃহস্থালির রান্নার গ্যাসের সরবরাহও স্থিতিশীল রয়েছে। গত তিন দিনে ১.৩২ কোটি বুকিংয়ের বিপরীতে ১.৩৪ কোটি গৃহস্থালি এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯৬ শতাংশ ডেলিভারি ডিএসি কোড ব্যবহার করে সম্পন্ন হয়েছে।
১ মে থেকে এখনও পর্যন্ত প্রায় ১৩ লক্ষ ৩২ হাজার টন বাণিজ্যিক এলপিজি সরবরাহ করা হয়েছে। গত তিন দিনে বিক্রি হয়েছে ২৩ হাজার ৫৮৮ টন এলপিজি। এছাড়াও অটো এলপিজি বিক্রি হয়েছে ৯৬৩ টন এবং প্রায় ১৮ লক্ষ ৮৭ হাজার পাঁচ কেজির সিলিন্ডার বিক্রি হয়েছে বলেও জানান সুজাতা শর্মা।
তিনি আরও বলেন, ‘মাইপিএনজিডটইন’ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এখনও পর্যন্ত ৫৮ হাজার ৫০০-রও বেশি পিএনজি গ্রাহক তাঁদের এলপিজি সংযোগ বাতিল করেছেন।
অন্যদিকে, বন্দর, জাহাজরানি ও জলপথ মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব মুকেশ মঙ্গল জানান, পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতির মধ্যেও ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা ও সামুদ্রিক পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে বিদেশ মন্ত্রক, ভারতীয় মিশন এবং সামুদ্রিক ক্ষেত্রের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করছে কেন্দ্র।
তিনি বলেন, “এই অঞ্চলে থাকা সমস্ত ভারতীয় নাবিক নিরাপদ রয়েছেন। গত ৭২ ঘণ্টায় ভারতীয় পতাকাবাহী কোনও জাহাজ বা ভারতীয় নাবিক থাকা বিদেশি জাহাজে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।”
মুকেশ মঙ্গল জানান, ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ শিপিংয়ের কন্ট্রোল রুম চালু হওয়ার পর থেকে এখনও পর্যন্ত ১০ হাজার ১০৬টির বেশি ফোনকল এবং প্রায় ২২ হাজার ২১৫টি ই-মেল সামলানো হয়েছে। এর মধ্যে গত ৭২ ঘণ্টায় এসেছে ৪০৪টি ফোনকল এবং ৯০৩টি ই-মেল।
তিনি আরও বলেন, ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ শিপিংয়ের মাধ্যমে এখনও পর্যন্ত ৩ হাজার ৩০০-রও বেশি ভারতীয় নাবিককে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এর মধ্যে গত ৭২ ঘণ্টায় ফিরেছেন ৯৯ জন নাবিক।
বন্দরগুলিতে কাজকর্ম স্বাভাবিক রয়েছে বলেও জানিয়েছেন অতিরিক্ত সচিব। তাঁর কথায়, “দেশের কোনও বন্দরেই পণ্য জটের খবর নেই। পশ্চিম এশিয়ার জন্য শিপিং খরচও কমেছে।” তিনি জানান, ২০ ফুটের একটি কনটেনার পাঠানোর খরচ ১৫ এপ্রিল যেখানে প্রায় ২,৪০০ মার্কিন ডলার ছিল, তা ১৯ মে কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২,০০০ মার্কিন ডলারে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য