
উজ্জয়িনী, ২১ মে (হি.স.) : মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীতে সিংহস্থ মহাপর্ব ২০২৮ (মহাকুম্ভ) উপলক্ষে পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। তীর্থযাত্রীদের সুবিধার্থে একাধিক বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে জোরকদমে। বৃহস্পতিবার জনপ্রতিনিধিরা আধিকারিকদের সঙ্গে মিনিবাসে করে বিভিন্ন নির্মীয়মাণ প্রকল্প ঘুরে দেখেন। পরিদর্শনের পর তাঁরা জানান, এবারের সিংহস্থ মহাপর্ব এক “অলৌকিক উৎসব”-এ পরিণত হবে।
মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ড. মোহন যাদবের নির্দেশে এদিন সাংসদ অনিল ফিরোজিয়া, রাজ্যসভার সাংসদ যোগী সন্ত উমেশনাথ মহারাজ, বিধায়ক অনিল জৈন কালুহেড়া, মেয়র মুকেশ টটওয়াল, নগর নিগমের চেয়ারপার্সন কলাবতী যাদব, উজ্জয়িনী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রবি সোলাঙ্কি, বিভাগীয় কমিশনার ও সিংহস্থ মেলা আধিকারিক আশীষ সিং, জেলাশাসক রোশন কুমার সিং, নগর নিগম কমিশনার অভিলাষ মিশ্র-সহ বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকরা একসঙ্গে প্রকল্পগুলি পরিদর্শন করেন।
বিভাগীয় কমিশনার আশীষ সিং জানান, সিংহস্থ উপলক্ষে নির্মীয়মাণ ছয়টি সেতুর কাজ ডিসেম্বর ২০২৬-এর আগেই সম্পূর্ণ হবে। এছাড়া নৈখেড়ি রাস্তার কাজও ওই সময়ের মধ্যেই শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজও নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
পরিদর্শনের সময় জেলাশাসক রোশন কুমার সিং নির্মাণ সামগ্রীর পরীক্ষাগারও দেখান। তিনি জানান, সিমেন্ট, গিট্টি, রড-সহ সমস্ত নির্মাণ সামগ্রীর নিয়মিত মান পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং সমস্ত রিপোর্ট নথিভুক্ত করে রাখা হচ্ছে। নির্মাণকাজের গুণগত মান বজায় রাখতে প্রশাসন বিশেষভাবে সতর্ক বলেও জানান তিনি।
জনপ্রতিনিধিরা ভূখি মাতা সেতুর নির্মাণকাজ ঘুরে দেখেন এবং সেখানে ব্যবহৃত আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন।
আধিকারিকরা জানান, সেতুর প্ল্যাটফর্ম তৈরিতে লোহার চাদর দিয়ে তৈরি বিশেষ পাইপ ব্যবহার করা হচ্ছে। এর চারপাশে কংক্রিট ও লোহার জাল বসিয়ে ওজন কমানোর পাশাপাশি স্থায়িত্বও বাড়ানো হচ্ছে। নতুন প্রযুক্তির এই ব্যবহার দেখে কমিশনার ও জেলাশাসক সন্তোষ প্রকাশ করেন।
পরিদর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল ‘কানহ ডাইভার্সন প্রকল্প’। শিপ্রা নদীকে দূষণমুক্ত রাখতে নেওয়া এই বৃহৎ প্রকল্পের নির্মাণকাজও ঘুরে দেখেন জনপ্রতিনিধিরা। তাঁরা প্রায় ২৪.৫ মিটার গভীরে নেমে নির্মীয়মাণ টানেলের কাজ পর্যবেক্ষণ করেন। আধিকারিকরা জানান, প্রকল্পটির মোট দৈর্ঘ্য ৩০.১৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে ১৮.১৫ কিলোমিটার অংশ ‘কাট অ্যান্ড কভার’ পদ্ধতিতে ক্লোজড ডাক্ট হিসেবে তৈরি হচ্ছে এবং বাকি ১২ কিলোমিটার অংশে ভূগর্ভস্থ টানেল নির্মাণ করা হচ্ছে। টানেলের বিভিন্ন অংশে পৌঁছনোর জন্য চারটি শ্যাফ্টও তৈরি হবে। সেপ্টেম্বর ২০২৭-এর মধ্যে এই প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
২৯ কিলোমিটার নতুন ঘাটে স্নানের সুযোগ
ত্রিবেণী শনি মন্দির সংলগ্ন এলাকায় নতুন ঘাট নির্মাণের কাজও ঘুরে দেখেন জনপ্রতিনিধিরা। শিপ্রা নদীর তীরে তৈরি হওয়া নতুন ঘাটগুলির কাজ দেখে তাঁরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁদের মতে, এই পরিকাঠামো তৈরি হলে কোটি কোটি তীর্থযাত্রী সহজে, সুরক্ষিতভাবে এবং স্বাচ্ছন্দ্যে স্নান করতে পারবেন।
আধিকারিকরা জানান, শিপ্রা নদীর তীরে ২৯ কিলোমিটার নতুন ঘাট নির্মাণ করা হচ্ছে। এর সঙ্গে পূর্বে নির্মিত ৭ কিলোমিটার ঘাট মিলিয়ে বিশাল পরিসরে স্নানের ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। ফলে সিংহস্থের সময় বিপুল ভিড় সামলানো অনেকটাই সহজ হবে।
এছাড়া ভূখি মাতা মন্দির সংলগ্ন এলাকায় শিপ্রা নদীর উপর নির্মীয়মাণ ১৭৫ মিটার দীর্ঘ সেতুর কাজও পরিদর্শন করা হয়। ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে সেতুর কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। জনপ্রতিনিধিরা জানান, এই সেতু তৈরি হলে সিংহস্থ চলাকালীন ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং যাতায়াত অনেক সহজ হবে।
এদিন মেডিসিটি এবং মেডিক্যাল কলেজ নির্মাণকাজও ঘুরে দেখেন জনপ্রতিনিধিরা। আধিকারিকরা জানান, নির্ধারিত সময়ের আগেই গুণগত মান বজায় রেখে দ্রুত গতিতে কাজ এগোচ্ছে।
সাংসদ অনিল ফিরোজিয়া বলেন, “জাতীয় সড়কে টানেল নির্মাণ দেখেছি, কিন্তু উজ্জয়িনীতে কানহ ডাইভার্সন প্রকল্প সত্যিই অবাক করার মতো। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অনুপ্রেরণায় মুখ্যমন্ত্রী ড. মোহন যাদব এই কাজ বাস্তবায়ন করছেন। শিপ্রা নদীকে শুদ্ধ করার এই প্রচেষ্টা অসাধারণ এবং প্রশংসনীয়।”
রাজ্যসভার সাংসদ সন্ত উমেশনাথ মহারাজ বলেন, “শিপ্রা নদীকে শুদ্ধ করার বহু চেষ্টা হয়েছে, কিন্তু এবার প্রথমবার বড় সাফল্যের পথে প্রকল্পটি এগোচ্ছে। ১০০ ফুট নিচ দিয়ে ১২ কিলোমিটার টানেল নির্মাণ সত্যিই অভূতপূর্ব। দেশের কোটি কোটি সাধু-সন্ত ও তীর্থযাত্রী পরিষ্কার শিপ্রার জলে স্নান করতে পারবেন।”
নগর নিগমের চেয়ারপার্সন কলাবতী যাদব বলেন, “২৯ কিলোমিটার নতুন ঘাট তৈরি হলে একসঙ্গে কোটি কোটি তীর্থযাত্রী স্নান করতে পারবেন। কানহ ডাইভার্সন প্রকল্পের মাধ্যমে শিপ্রার জলও শুদ্ধ থাকবে। সিংহস্থকে ঘিরে উজ্জয়িনী এখন নতুন করে সেজে উঠছে।”
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য