স্বাস্থ্য পরিষেবায় বিপ্লব আনতে পারে এআই, তবে প্রয়োজন কঠোর নীতি ও নৈতিক নজরদারি: জে পি নাড্ডা
নয়াদিল্লি, ২১ মে (হি.স.) : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই স্বাস্থ্য পরিষেবায় আমূল পরিবর্তন আনতে পারে, তবে তার জন্য প্রয়োজন শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, কঠোর গবেষণা, নৈতিক তদারকি এবং সমতার ভিত্তিতে প্রয়োগ। বৃহস্পতিবার এমনই মন্তব্য করলেন কেন্দ্রীয় স্বাস
স্বাস্থ্য পরিষেবায় বিপ্লব আনতে পারে এআই, তবে প্রয়োজন কঠোর নীতি ও নৈতিক নজরদারি: জে পি নাড্ডা


নয়াদিল্লি, ২১ মে (হি.স.) : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই স্বাস্থ্য পরিষেবায় আমূল পরিবর্তন আনতে পারে, তবে তার জন্য প্রয়োজন শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, কঠোর গবেষণা, নৈতিক তদারকি এবং সমতার ভিত্তিতে প্রয়োগ। বৃহস্পতিবার এমনই মন্তব্য করলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী জে পি নাড্ডা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সভার ৭৯-তম অধিবেশনের এক বিশেষ বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “এআই স্বাস্থ্য পরিষেবাকে নতুন দিশা দেখানোর ক্ষমতা রাখে। কিন্তু এর সুফল যাতে সমাজের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছয়, তা নিশ্চিত করতে হলে প্রযুক্তিকে দায়িত্বশীল ও জনমুখী কাঠামোর মধ্যে ব্যবহার করতে হবে।”

‘স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: আইন, নৈতিক নজরদারি, গবেষণা ও সমতা’ শীর্ষক ওই বৈঠকে নাড্ডা জানান, ভারত ইতিমধ্যেই নিরাপদ, স্বচ্ছ এবং নাগরিক-কেন্দ্রিক স্বাস্থ্য এআই কাঠামো তৈরির পথে এগোচ্ছে।

তিনি বলেন, ২০১৫ সালে শুরু হওয়া ডিজিটাল ইন্ডিয়া উদ্যোগ ভারতের প্রযুক্তিগত ভিতকে শক্তিশালী করেছে এবং ভবিষ্যতের প্রযুক্তি, বিশেষ করে এআই ব্যবহারের জন্য দেশকে প্রস্তুত করেছে। ২০১৭ সালের জাতীয় স্বাস্থ্য নীতিতে একটি সমন্বিত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছিল। পরে ২০২১ সালে আয়ুষ্মান ভারত ডিজিটাল মিশন এবং সম্মতিভিত্তিক ডিজিটাল স্বাস্থ্য তথ্য কাঠামোর মাধ্যমে সেই পরিকল্পনাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আরও জানান, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে চালু হওয়া ‘স্ট্র্যাটেজি ফর এআই ইন হেলথকেয়ার ফর ইন্ডিয়া’ বা ‘সাহী’ গ্লোবাল সাউথ থেকে উঠে আসা প্রথম বিস্তৃত স্বাস্থ্য এআই কৌশল। এই নীতি ভারতের স্বাস্থ্য পরিষেবাকে নৈতিক, স্বচ্ছ এবং জনকেন্দ্রিকভাবে পরিচালিত করতে সাহায্য করবে।

তিনি ‘বোধ এআই’ প্ল্যাটফর্মের কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, এই প্ল্যাটফর্ম বাস্তব স্বাস্থ্য তথ্যের উপর ভিত্তি করে এআই-ভিত্তিক সমাধান গড়ে তুলতে সাহায্য করবে, যাতে দেশের সব নাগরিক সমানভাবে নিরাপদ ও কার্যকর পরিষেবা পান।

স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের সুযোগ এবং ঝুঁকি কোনও দেশ একা সামাল দিতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন নাড্ডা। তিনি জানান, ভারত বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে মিলিতভাবে নির্ভরযোগ্য এবং আন্তঃসংযুক্ত স্বাস্থ্য তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা, যৌথ গবেষণা বাড়ানো এবং নৈতিক এআই উন্নয়নে কাজ করবে।

নাড্ডা বলেন, “স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে এআই-এর ভবিষ্যৎ শুধুমাত্র অ্যালগরিদমের উপর নির্ভর করছে না, বরং সরকার, প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সম্মিলিত সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে।” তাঁর কথায়, “ভারত শুধু আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সে নয়, অল ইনক্লুসিভ ইন্টেলিজেন্সে বিশ্বাস করে।”

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande