
ক্যানিং, ২৬ মে (হি. স.): একটাই অপরাধ ছিল তাঁর, সে বিজেপি দল করে। বিজেপির হয়ে নানা ধরনের পোস্ট করে সমাজ মাধ্যমে। আর তাই গত ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশ হতেই ঘর বাড়ি ভেঙে দেওয়া হয় অলিপ সমাদ্দার নামে ওই বিজেপি কর্মীর। ক্যানিংয়ের দীঘিরপাড় গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার জয়দেব পল্লির বাসিন্দা অলিপ সেই থেকেই ঘরছাড়া।
তাঁর বাবা ও মা সেই ভাঙা ঘরে ছিলেন অনেকদিন। কোনও মতে ধিরে ধিরে ভাঙা বাড়ি সারাই করে মাথা গুঁজে ছিলেন। কিন্তু ২০২৩ পঞ্চায়েত ভোটের পর আরও একবার ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় অলিপের বাড়ি। কার্যত বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। বাস উঠিয়ে দেওয়া হয় এলাকা থেকে। এলাকার তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধেই অভিযোগ অলিপের। অভিযোগ দিনের পর দিন তাদের অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছে অলিপের মত অন্যান্য বিজেপি নেতা কর্মীদের।
প্রথমবার ভাঙচুরের পর বারুইপুরে বিজেপির জেলা কার্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন তিনি। স্ত্রীকে নিকট আত্মীয়ের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। দিনের পর দিন পার্টি অফিসে মুখ গুঁজে পড়েছিলেন অলিপ। সেখান থেকেই দলের সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার কাজ শুরু করেন। কিন্তু দ্বিতীয়বার ফের বাড়ি ভেঙে দেওয়ায় বাবা ও স্ত্রীকে নিয়ে বিপদে পড়েন অলিপ। শুধু বাড়ি ভাঙা নয়, স্থানীয় তৃণমূলের নেতারা তাঁর বাবা ও মাকে মারধর করেছিলেন বলে অভিযোগ। কার্যত বাড়ি ভাংচুর করে ক্যানিং থেকে তাঁদের তাড়িয়ে দেওয়া হয়। বাবা মাকে নিয়ে বারুইপুর থানার চম্পাহাটিতেই বছর তিনেক বসবাস করেন এই বিজেপি কর্মী। অবশেষে রাজ্যে পালা বদলের পর বিজেপির পরিবর্তনের সরকার গঠন হতেই বাড়ি ফিরেছেন সপরিবারে।
মঙ্গলবার অলিপ বলেন, “ শুধু দিন গুনতাম, এই তৃণমূলের অপশাসনের শেষ কি হবে না? আমাদের উপর অকথ্য অত্যাচার হয়েছে, পুলিশের কাছে গিয়েছি কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। দোষীদের গ্রেফতার তো দূর, আমাদেরকেই মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দিয়েছে। পাঁচ বছর পর বাড়ি ফিরে ভালো লাগছে ঠিকই, কিন্তু কোথায় মাথা গুঁজবো! মাথা গোঁজার ঠাই টুকু যে ওঁরা বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে।”
অলিপের বাবা অবনী সমাদ্দার বলেন, “ ছেলে বিজেপি দল করতো বলে আমাদের উপর যে নির্যাতন হয়েছে তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। শেষ পর্যন্ত যে নিজেদের ভিটেতে ফিরতে পেরেছি সেটাই অনেক। তবে এই অত্যাচারী তৃণমূল সরকার থেকে বিদায় না হলে হয়তো আর বাড়ি ফেরা হত না।”
যদিও এ প্রসঙ্গে স্থানীয় কোন তৃণমূল নেতৃত্বই মুখ খুলতে চাননি। পঞ্চায়েত ও ব্লক স্তরের একাধিক নেতাকে ফোন ও মেসেজ করা হলেও কোনও উত্তর দেন নি কেউই।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / পার্সতি সাহা